শ্রীমঙ্গলের উপনির্বাচনে পেশিশক্তি, হুমকির অভিযোগ সতন্ত্র প্রার্থীর

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার উপ নির্বাচনে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে চলছে জোরালো প্রস্তুতি। উপজেলাজুড়ে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা।

তবে শ্রীমঙ্গলের উপ-নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখল হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা আওয়ামী বিদ্রোহী সতন্ত্র দুই প্রার্থীর। গতকাল সোমবার (৪ঠা অক্টোবর) বেলা ১২ টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক ও প্রেমসাগর হাজরা তাদের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। তারা জানান, যেকোনও মূল্যে কেন্দ্র দখল করে, নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে জয়ের পায়াতারা করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটা অংশ আমরা নিজেরাও, তারপর ও এমন আশঙ্কা দাগ কাটছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক ও প্রেমসাগর হাজরা বলেন, বিভিন্ন বিশস্ত সূত্রে, আমরা জানতে পেরেছি নৌকার প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সকল ভোট সেন্টার দখল করার পায়তারা করছেন। ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল করার পরিকল্পনা করছেন।

যেহেতু শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কোন দূর্গম এলাকা নেই, সেহেতু আমরা আপনাদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে ভোটের দিন সকালে ভোট শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে ব্যালট বাক্স ও বেলট পেপার পৌঁছনো হোক। এমন ও আশঙ্কা করছেন যে ব্যালট বাক্সে আগে থেকে প্রচারনা করে যে কোন রকম অপ্রতিকর পরিবেশ, পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারেন বলে জানান। তারা আরো ও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই আমাদের কর্মী সমর্থকদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের দ্বারা বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।

পাশাপাশি আমাদের প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে, পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তার সৃষ্টি করে আসছেন। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মিছিল এর মাধ্যমে শহর জুড়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এহেন কর্মকাণ্ড সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যঘাত এবং প্রশ্ন বিদ্ধ করছে বলে আমরা মনে করছি। দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাবি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের সকল ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। প্রশাসন যেন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করে।

সাথে সাথে উপজেলার সকল ভোট কেন্দ্রে বিজিবি মোতায়েন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের সব সেন্টারের জন্য আলাদাভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হোক। শ্রীমঙ্গলের ভোটাররা শান্তিপ্রিয় এই নির্বাচনেও ভোটাররা শান্তিপ্রিয়তার পরিচয় দিবেন। এখানে চা বাগানের একটি বড় অংশ রয়েছে। তারা সব সময় স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে আসছে। তাদের ভোটাধিকারে যেন কোন অবস্থায় হস্তক্ষেপ না করা হয়। তাছাড়া শ্রীমঙ্গল শান্তির শহর, শান্তির উপজেলা। আমরা এই উপজেলার উপ-নির্বাচনে একটি সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।

দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, এই নির্বাচনে যদি নৌকার প্রার্থী কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, যদি ভোট কারচুপি করতে চায়, তাহলে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি এবং এই পরিস্থিতির জন্য নৌকার প্রার্থীই দায়ী থাকতে হবে। সে জন্য প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, যেন এই নির্বাচনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থেকে ভোট কারচুপি হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং জনগনের পবিত্র আমানতের সঠিক প্রতিফলন আমরা দেখতে পারি।

আমরা প্রশাসনের কাছে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের ফলাফল সুষ্ঠভাবে ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, আপনারা সব সময় অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে, জাতির বিবেক, কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করেন। আমরা এই নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি। ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন আপনারা নির্বাচনকে সুষ্ঠ করে তুলতে জনগনের পাশে থাকবেন।

জনগন যেন তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। নির্বাচনে জনগন যাকে ভোট দিবে তাকেই আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিবো। কিন্তু যদি ভোটে কোন ধরনের কারচুপি করা হয় আমরা সেটা মেনে নিবো না। এজন্য সরকারের সকল দায়িত্ব প্রাপ্ত সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.