বেপরোয়া জালংয়ের আলীম বাহিনি, এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সিলেটের জাফলংয়ের নয়াবস্তির ইনছান আলীর পুত্র আলীম উদ্দিন,পুলিশের খাতায় সে একজন দাগী আসামি। তার পিসিপিয়ারে ( পূর্বের রেকর্ডপত্র ও স্বভাবচরিত্রে) অন্তর্ভুক্ত আছে ৮টি মামলা।

এসব মামলার মধ্যে, হত্যা-ধর্ষণসহ, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও মারামারির অভিযোগ রয়েছে। আলীম উদ্দিনের কারণে সিলেটের জাফলং এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। রাস্তায় ওঁৎ পেতে মানুষজনের ওপর হামলা ও জমিদখলেরও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। জেল খেটে বের হয়ে আবারো আলীম উদ্দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে তাদের অভিযোগ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলীম উদ্দিন নয়বস্তির একজন বারকি শ্রমিক ছিলেন।

জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর পাথরকোয়ারিতে চাঁদাবাজি করতেন আলীম উদ্দিন। সেই চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে এলাকায় আলীম বাহিনি গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনি দিয়ে এলাকার নিরীহ লোকদের জমি দখল, হামলার ঘটনা ঘটিয়ে রাতারাতি এলাকার ত্রাসে পরিণত হন আলীম উদ্দিন। নীরবে একচেটিয়া চাঁদাবাজি করেন বিগত ৫ বছর। সাধারণ বারকি শ্রমিক থেকে হয়ে যান রাতারাতি কোটি-কোটি টাকার মালিক। এলাকায় এখন তার রয়েছে দখলকৃত জমি, পাথরের মিল। সবই হয়েছে চাঁদাবাজির টাকায়। আলীম বাহিনির কারণে এলাকার মানুষ রাস্তাঘাটে চলতে ভয় পান।

অনেকের অভিযোগ, রাস্তায় রামদা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আলীম বাহিনি। বিগত বছরে এরকমভাবে এলাকার কয়েকজন মানুষকে রক্তাক্ত করেছে এই চাঁদাবাজরা। তাদের বিরুদ্ধে থানা, পুলিশ সুপার ও ডিআইজি বরাবরে আছে অসংখ্য অভিযোগ। নয়াবস্তি গ্রামের আকবর আলী বলেন,‘ আলীম উদ্দিন একজন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ। এলাকায় নিরীহ অনেক মানুষের জমি দখল করেছে আলীম। আমরা এলাকাবাসী যে তার অপকর্মের প্রতিবাদ করেছি, হামলার শিকার হয়েছি। আমি ও আমার ভাই আজগর আলীর ওপর আলীম বাহিনি হামলা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা আছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভিকটিমের মা বলেন,‘ আলীমের শ্যালক তাহের তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। পরে নগ্ন ছবি আলীম উদ্দিন নেটে ছেড়ে দেয়। মেয়েটি স্কুলে পড়তো, এই ঘটনার পর আর স্কুলে যায় না। ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে তাহের ও আলীমের ওপর মামলা আছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারে আছে।’ ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সদস্য আতাই রহমান বলেন, আলীমের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। এলাকায় চাঁদাবাজি. দখলবাজি করে বেড়ায়। কেউ প্রতিবাদ করলে রাস্তাঘাটে হামলা করে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পিসিপিআর খাতায় আলীম উদ্দিন একজন দাগী আসামি। তার বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা আছে। মামলাগুলো হচ্ছে, চাঁদাবাজি মামলা নং-১৭/ ১১ জুলাই, ২০১৮ ইং, এফআইআর নং-৮, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং (মারামারি), মামলা নং-২০, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ (নারী নির্যাতন), মামলা নং-২৫/২১ (হত্যা), মামলা নং-২২, ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং (পর্নোগ্রাফি), মামলা নং- ১১, ২৬ এপ্রিল ২০২১ ইং ( মারামারি), মামলা নং-৬, ৮ মে, ২০২০ ইং, (হামলা) এবং মামলা নং-২৩, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ইং ( মারামারি)।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলীম উদ্দিন বলেন, আমি এলাকায় বর্তমানে থাকি না। তাদের ওপর হামলা করার প্রশ্নই আসে না। বরং আমি তাদের ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল দেব বলেন,‘ আলীম উদ্দিন একজন দাগী অপরাধী। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, পর্নোগ্রাফি ও নারী নির্যাতনসহ মোট ৮টি মামলা আছে। সবকটি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.