সিলেটের চিতল মাটি রাবার বাগানে পাহাড় কেটে ঘর নির্মান পরিবেশ হুমকির মুখে!

বিশেষ প্রতিবেদক ::

সিলেটের চিতল মাটি রাবার বাগানে চলছে পাহাড় টিলা কেটে ঘর তৈরী। পাহাড়ের তলায় ঘর নির্মানের পাশাপাশি চলছে রাবার গাছ নিধন,লোহা জাতের অস্ত্র, কুদাল দিয়ে পাহাড়ের নীচ তলায় কেটে দেওয়া হচ্ছে আর বৃষ্টি পানিতে ভেংঙ্গে পড়ছে পাহাড়। এ পদ্ধতিতে চলছে পাহাড়, টিলা দখলের মহা উৎসব।

আর নাকে তৈলদিয়ে ঘুমাচ্ছন ভুমি ও পরিবেশের কর্মকর্তারা।

রাবার  একটি অত্যন্ত মূল্যবান অর্থকরী বনজ সম্পদ যার বিভিন্ন ধরণের ব্যবহার রয়েছে। রাবার গাছের কষ (ল্যাটেক্স) থেকে রাবার উৎপন্ন হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বৃটিশদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম রাবার চাষ শুরু হয়। ১৯৫২ সালে তৎকালীন বনবিভাগ মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে রাবার বীজ ও কয়েক হাজার রাবার চারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও টাঙাইলের মধুপুরও সিলেট এলাকায় কিছু গাছ রোপণ করে। ১৯৫৯ সালে  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং এদেশের জলবায়ু ও মাটি রাবার চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ করার সুপারিশ করে। ১৯৬১ সালে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পার্বত্য এলাকায় রাবার চাষ শুরু করা হয়। 
আর এদিকে সিলেটের চিতল মাটি রাবার বাগানের  পাহাড় কেটে রাবার গাছ কর্তন করে একের পর এক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আর ধংস করা হচ্ছে পরিবেশ।

সিলেট শহরের খুব কাছেই এই চা বাগানটি সবুজ ঘেরা অনিন্দ্য সুন্দর। প্রায় আড়াই হাজার একর ভূমিস্বত্ব সীমানায় উঁচু-নিচু টিলার- পাহাড়  পর পাহাড় – টিলায় ভরা চা বাগানটি।
রয়েছে এক হাজার দুইশ একর জমি, রাবার আবাদের জন্য সাতশ একর জমি এবং কারখানা, আবাসন, বৃক্ষ, বনজঙ্গল জুড়ে বাকি জমিটুকু। দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে এসে যারা খুব অল্প সময়ে খুব সুন্দর কোনো সবুজের গালিচায় হারিয়ে যেতে চান তাদের জন্য অনন্য মালনীছড়া চা বাগান।
মালনীচড়া ছাড়াও এখানে রয়েছে লাক্কাতুরা চা বাগান, আলী বাহার টি এস্টেট এবং পশ্চিম দিকে ভেতরে তারাপুর চা বাগান। পূর্বদিকে কালাগুল চা বাগানের আরও পূর্বে চিকনাগুল চা বাগান। বাগানে বাগানে পুরো একটি চা অঞ্চল সিলেটে। সিলেটের এই চা বাগান থেকেই চা চাষের গোড়াপত্তন। যা এখন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ।
সেই ইতিহাস ঐহিত্যের চা বাগানের বুক ভেদ করে চলে গেছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক। আকাশপথে যারা সিলেটে আসেন তাদের প্রথমেই স্বাগত জানায় এই চা-বাগান। বাগানটির অদ্ভুত সুন্দরের মায়ায় পড়েছিলেন অনেক বিদেশি। গাড়ি থামিয়ে তারা দাঁড়িয়েছেন বাগানের পাশে। আর এই চা বাগানের মধ্যে গড়ে উঠা চাতল রাবার বাগানের টিলা-পাহাড়  কেটে ধংস করা হচ্ছে সুন্দর্ষের লীলা। এখানে ঘুরতে আসা

 


পর্ষটক অনেকেই এ প্রতিবেদক কে জানান
চা বাগানের মাঝে গড়ে উঠা রাবার বাগান ঘরতৈরী করে ধ্বংস করা হচ্ছে পরিবেশ এভাবে টিলা কেটে ঘর তৈরী করা হলে রাবার বাগান চা বাগান বিলিন হয়ে যাবে একদিন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চিতল মারি টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংসের দৃশ্য। বাগানের মালিক দানবীর রাগীব আলীর  মালিকানাধীন চিতল মাটি রাবার বাগানের শ্রমিক বসবাসের জন্য টিলা কেটে পরিবেশ নষ্ট করে প্রায় ৭/৮ ঘর নির্মান হচ্ছে। স্হানীয়  দের অভিযোগ  এরা পরিবেশের তোয়াক্কা না করে ধ্বংস লিলায় মেতে উঠেছে।  এলাকার অনেকেই   পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি কামনা করছেন। এর বিহিত ব্যবসতা না নিলে পরিবেশ আরো হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.