সিলেটে রাস্তা-ঘাট, শপিংমলে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

সিলেটে দিনদিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। গত দু’দিন সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও রোববার (১৮ জুলাই) অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত দেখলেন সিলেটবাসী। মৃত্যু ও আক্রানের সংখ্যা বাড়লেও লকডাউন শিথিলে ঘর থেকে নানা কাজে বের হওয়া নারী-পুরুষ কারো মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। সেই আগের রূপেই ফিরেছে নগরীর সব রাস্তাঘাটসহ শপিংমল। রাস্তা- ঘাটে লেগে আছে যাজট, শপিংমল, দোকান-পাটে মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

এদিকে, রোববার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে মারা গেছেন ১২ জন। এটি একদিনে সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সাথে নতুন করে আরও ৬৮১ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের দিক দিয়েও একদিনে এটি সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানাযায়।

করোনা সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার থেকে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনও নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে সবখানেই ছিল মানুষের ভিড়। গতকাল রোববার ব্যাংকসহ সবখানে মানুষের চাপ আরও বাড়ে। সড়কেও বেড়েছে গাড়ির চাপ। সাথে যুক্ত হয়েছে ঈদযাত্রা। বেড়েছে যানবাহনও। এজন্য সব সড়কেই লেগে আছে যানজট। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সবকিছু খুলে দেওয়া হলেও কোথাও তা মানা হচ্ছে না। গণপরিবহণ চালুর প্রথম দিন থেকেই সিলেটের সব সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ।

ঈদের আগে আটদিন বিধিনিষেধ শিথিল করে দোকান, বাজার, শপিং মল খুয়ে দেওয়ায় ঘরে আটকা মানুষ ছুটছেন বাজারে ও শপিং মলে। বেশিরভাগের মুখে মাস্ক থাকলেও ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদি করেই কিনছেন এটা-ওটা। নগরীর কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। ঈদের কেনাকাটায় শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্টগুলো তুলে দেয়ায় নিয়ম শৃঙ্খলা মানছেন না কেউই। মাস্ক ছাড়াই মানুষ রাস্তায় অবাধে চলাচল করছেন। অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই করোনাভীতি দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও ঈদ বাজার করতে মার্কেট ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা গেছে। ক্রেতারা মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে নগরীর বিপণীবিতানগুলোতে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়। সামাল দিতে পারছেন না দোকান মালিকরা। স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব মোটেই মানছেন না, যদিও তাদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক লক্ষ করা গেছে। মালামাল কিনতে গিয়ে যেন দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।

ঝুঁকি নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘প্রতিটি দোকানে ভিড়, যে কারণে কারও পক্ষেই স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না। ঈদে নিজেদের জন্য না হলেও বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে হবে। তাই ঝুঁকি নিয়েও বাজারে এসেছি।’

দোকান মালিকরা বলছেন, ‘আমরা যতটুকু সম্ভব স্বাস্থবিধি মেনে চলছি। তবে ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে অনুরোধ করলেও তারা শুনছেন না। বলতে গেলে বরং বিপরিত ফল হয়।’

অপরদিকে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট নগরীসহ জেলায় ৫২ টি পশুর হাট বসেছে। এসব হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। হাটে আসা কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। গাদাগাদি করে বসেছে পশুর হাট। মুখে মাস্ক তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে হাটে প্রবেশ করেছে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে সুরক্ষাব্যবস্থা নেই, প্রবেশ পথে রাখা হয়নি হাত ধোঁয়ার পানি ও সাবান। শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র নেই। হাটজুড়ে রয়েছে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের অবাধ চলাচল।

দক্ষিণ সুরমা ট্রাক ষ্ট্যান্ডে অস্থায়ী পশু হাটে আসা ছামাদ আহমদ নামে এক ক্রেতা বলেন, কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছি। কিন্তু হাটে তো কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। এত মানুষ দেখে ভয়ও লাগছে। পুরো হাটে মানুষে মানুষে একাকার। যেহেতু লকডাউন নেই, তাই হাটে-বাজারে মানুষ বেড়েছে। প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত। তা না হলে ঈদের পর হাসপাতালে জায়গা খুঁজতে খুঁজতে অনেককে তার প্রিয়জন হারাতে হবে।

কামাল মিয়া নামের এক গরু বিক্রেতা বলেন, পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিভাবে? স্বাস্থ্যবিধি মানতে হলে হাটের জন্য বড়সড় জায়গার প্রয়োজন। একেতো জায়গা কম, খালি স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বললেই তো হবে না। ছোট জায়গায় মানুষ বেশি। তাছাড়া মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে প্রশাসন কী করবে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.