সিলেটে ঈদে সক্রিয় নারী চোর চক্র : একটি সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইদল নামে মার্কেটে

এম,এ,রউফ।।  ১.পপি ২.স্বপ্না ৩.সুমি ৪.লিপি ৫.মালা ৬ শান্তা ৭.মমতা ৮.নাজমা ৯.কমলা ১০.রুজিনা ১১.নাতাশা ও ১২.শাইনি এরা সকলেই নগরীর চিহিৃত নারী পকেট চুর। তাদের পেশা চুরি। বাড়ি সিলেটে না হলেও বসবাস নগর ও শহরতলীতে। বোরকা লাগিয়ে নগরজুড়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন মার্কেটে মার্কেটে দেয় ঢুঁ। আর সুযোগ পেলেই ছিনিয়ে নেয় মোবাইল কিংবা ভ্যানিটি ব্যাগ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক বার জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করলেও বেশিদিন কারাবাস করতে হয়নি। জামিনে বেরিয়ে এসে আবার চুরির ধান্ধা।

এক ডজনের এই চক্রের আরো সদস্যরাও আছেন। প্রতিনিয়ত তাদের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নারী প্রতারক চক্রের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল। কোথায় কিভাবে তারা চুরি-ছিনতাই করে এমন গোপন কিছু তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারী প্রতারক চক্রটি চুরি করতে গিয়ে কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তারা নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী সেজে যায়। সেখানে ‘টার্গেট’ ঠিক করে সেই টার্গেটের সাথে একই লাইনে দাঁড়ায়। তারপর সুকৌশলে টার্গেট ব্যক্তিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল, টাকা ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে দ্রুত সহযোগীর কাছে পাচার করে দেয়।

নগরীর পকেট চোর সিন্ডিকেটের এমনই দুইজন সীমা বেগম পপি ও শামীমা বেগম স্বপ্না। দু’জনই বিবাহিত ও বয়স ৩০ বছরের কোটায়। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামুরা গ্রামে বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন থেকে তারা বসবাস করে নগরীতে। বর্তমানে উপশহর এইচ ব্লক বিলের পারে থাকে। তারা দু’জনই নারী পকেট চোর। নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানাসহ অধিকাংশ এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে তারা পরিচিত মুখ। ঈদ এলেই তাদের দুই জনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইদল নামে মার্কেটে। চুরি করতে গিয়ে তারা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ধরা পড়ে। ওই সময় আরো কয়েকজন মহিলাও ধরা পড়ে। সীমা-স্বপ্ন’র বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে।পুলিশ জানায়, পপি-স্বপ্না পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়। প্রথম তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও পরে অবশ্য জেরার মুখে চুরির কথা স্বীকার করে। তারা শুধু চোর কিংবা ছিনতাইকারী নয়। তারা অসামাজিক কাজ, মাদক বিকিকিনি সহ নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.