প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর : বিদ্যুৎ নেই, ঘরে ওঠেনি ৬৬ পরিবার

মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দুই দফায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১৪৬টি হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছেন পাকা ঘর। আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে ঘরগুলোর চাবিও হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে বিদ্যুৎ না পৌঁছায় ৬৬টি পরিবার এখনও ঘরগুলোতে উঠতে পারেনি। যারা উঠেছেন তারা বিদ্যুৎ না থাকায় কষ্ট করছেন।

অবশ্য তাদের এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ (‘ক’ শ্রেণি) পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় তাহিরপুর উপজেলার প্রথম ধাপে ৭০টি ও দ্বিতীয় ৭৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। একেকটি সেমি-পাকা ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব ঘরে সংযুক্ত একটি রান্নাঘর ও শৌচাগার রয়েছে। এরমধ্যে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে প্রথম পর্যায়ের ৭০টি ঘর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এবং বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৭৬টি ঘর ২০জুন উপকারভোগীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের ঘর উদ্বোধনের প্রায় ৫ মাস পার হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘর উদ্বোধন হয়েছে প্রায় ২০ দিন। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কোনো ঘরে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে ঘরগুলোর বাসিন্দারা প্রচণ্ড গরমে সীমাহীন কষ্ট করছেন।

সরেজমিনে রোববার উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে গেলে দেখা যায়, ৭০টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘরে মানুষ উঠেছেন। ৪০টি ঘরে কেউ এখনও উঠেনি। একই অবস্থা বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ হওয়া ঘরগুলোতে ৫০টির মতো পরিবারের উঠেছেন। ২৬টি পরিবার এখনও উঠেননি।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যারা উঠেছেন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের মধ্যেই অনেকে এখানে থাকেন না। উপকারভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।

মানিগাঁও গ্রামের উপকারভোগী মনির মিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু ঘরে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে আমাদের কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ দেওয়া হয়নি।’

উপকারভোগী শহর বানু বলেন, ‘খাবারের পানির ব্যবস্থা হলেও সাড়ে ৫ মাসে বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা হয়নি। বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও পাইনি। বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।’

তাহিরপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকায় সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এজিএম মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘সরকারি প্রতিটি ঘরেই পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়্যারিংসহ যাবতীয় কাজ করে দিচ্ছে। আর এ খরচ বহন করছে সরকার। আমাদের লোকজন ওয়্যারিংয়ের কাজ করছে। দ্রুত কাজ শেষ করেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের ঘরগুলোতে ওয়্যারিং কাজ করানোর কথা ছিল। পরবর্তিতে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। ওয়্যারিং কাজ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়নি। সরকারি ভাবেই সব অনুমোদনের পর টেন্ডারসহ অন্যান্য কাজ শেষ করতে দেরি হয়েছে। এখন আমরাই সব কিছু করে দেব। দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, ‘এখানে নতুন যোগদানের পর পরই প্রতিটি কাজ গুরুত্বের সাথে করছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে বলেছি। সব খরচ সরকারি ভাবেই হবে। আশা করছি দ্রুত তা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.