মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

 

সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের একটি মন্দিরের পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাঘার এই মন্দিরের জমি দীর্ঘদিন ধরেই দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। মন্দিরের জমি দখল নিতেই পুরোহিতকে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করা হয়। বাঘায় ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সব কিছু পার্লার হাসিনার চক্রান্ত ‘গিরিধারী জিউ মন্দিরে ভক্তবৃন্দের’ ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা লিংকন দেব। বাঘার কালাকোনা গ্রামের গিরিধারী জিউ মন্দিরের পুরোহিতসহ দুজনকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এই গ্রামের এক তরুণী। মামলার পরপর পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পার্লার হাসিনার আস্তাবাজনের অনুরোধে মিথ্যা মামলায় সেবায়েত জেলে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিংকন দেব বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে কথিত ভিকটিমের পরিবারের দেয়া বক্তব্য ও এজাহারে দেয়া বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল নেই। ‘মন্দিরের সেবায়েত ও মন্দিরের ভূমিদাতার ছেলেকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টায় বাথরুমে যাওয়ার জন্য বের হলে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। অথচ তাদের পরিবারই আবার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে- ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য সেবায়েতের কাছে গেলে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়।’ লিংকন দেব জানান, ঘটনার দুই দিন পর ১৫ এপ্রিল বিকেলে পুরোহিতকে সুনাপুর চৌমুহনী অধীরের দোকান নামক বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুরোহিত বাজারে সবজি কিনতে গিয়েছিলেন। ‘কেউ অপরাধ করার পর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। আত্মগোপন করতেন। কিন্তু পুরোহিত স্বাভাবিকভাবেই বাজার করতে গেছেন। তা ছাড়া মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে অন্য এলাকার বাসিন্দাদের। ঘটনাস্থলের আশপাশের কাউকে সাক্ষী রাখা হয়নি।’ লিংকন দেব আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট মন্দির নির্মাণ কাজে বাধা দেয় ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদীর পরিবার। তারা ২ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করে। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর মন্দিরে ঢুকে সেবায়েতকে তারা লাঞ্ছিত করে। চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় করা মামলা সিআইডি তদন্ত করে অভিযোগপত্রও সংবাদ সম্মেলনে আসা স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘ পার্লার হাসিনার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা সাজিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিজিত কুমার দাস, বিধান দেব, ঝলক দেব, টিপু দেব, সত্য রঞ্জন বিশ্বাস, উজ্জল দেব, নীরেশ চন্দ্র নম, রাহুল কান্তি দেসসহ আরও অনেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.