Sylhet Express

জৈন্তাপুর উপজেলায় বিএনপি নেতা মখছুছ চৌধরীর বিরুদ্ধে জোরপুর্বক জমি দখলের অভিযোগ

0 ১৪৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নং নিজপাট ইউনিয়ন অন্যের জমি দখল করে সেখানে পাচ তালা ফাউন্ডেশন দিয়ে দুই তালা ভবন নির্মাণ করে একটি বানিজ্যিক কিন্ডারগার্টেন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা’মখছুছ ‘চৌধুরীসহ গুটিকয়েক জামাত বিএনপির রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জানা যায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের মরহুম সামছুদ্দিন আহমদ খন্দকার ও উনার আরেক এক ভাইর নামের জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

সরজমিন খোজ নিয়ে জানা যায় ২০১০ ইং সালে মৌখিক ভাবে বাতসরিক এক লক্ষ টাকার প্রদান শর্তে উক্ত জমিতে একটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করে স্কুল পরিচালনা করেন।নালিশা ভূমিরসহ দক্ষিণ পাসের ভূমির রেকডিয় মালিক মরহুম সামছুদ্দিন খন্দকার ও উনার আপন ভাইর নামে।

বর্তমান খতিয়ান ৫৭৭,দাগ ৭৮৯,ও ৭৯০ ।মৌজা নিজপাট নালিশা ভূমির উত্তর পাশের মৌরসি মালিক অভিযুক্ত মখছুছ চৌধুরীসহ উনার অপরাপার শরিকানা ব্যক্তিগন,খোজ নিয়ে জানা যায় বিগত ২০০৮ ইং সালে সরকার ভূমি হিসাব প্রদানে মারাত্নক প্রতারণার দায়ে তাদের সমস্ত ভূ সম্পত্তি এমনকি তাদের বসত বাড়িসহ বাজাপ্ত করে সরকারের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারি মরহুম সামছুদ্দিন খন্দকারের ছেলে, খন্দকার শফিউল ইসলাম বলেন সব কিছু কাটিয়ে আমার আপত্তি কর্নপাত না করে এবং নিয়মিত স্থানান্তরে থাকার কারনে এবং আমার বাবা মরহুম সামছুদ্দিন খন্দকারের অসুস্থতার ঘরমুখীতার সুযোগে আমাদের চুক্তিকূত বাতসরিক টাকা না দিয়ে ২০১২ সালে মখছুর চৌধুরী ঐ ভূমিতে পাচ তালা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন নির্মাণ করে কিন্ডারগার্টেন স্কুল নাম দিয়ে স্কুল ব্যবসা শুরু করেন, আমি কোনভাবে তাদের দমাতে পারিনি,মখছুর চৌধুরীর দাবি ঐ নালিশা ভূমির মালিকানা উনার নিজের।শফিউল ইসলাম আরো জানান,আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা (বিএস) জরিপের চুড়ান্ত রেকর্ড আসা পর্যন্ত আমাকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিলে আমি তাদের পরামর্শ মেনে নেই।

এরপর চলতি বছরের প্রথমদিকে হাল প্রিন্ট পর্চা চলে আসলে আমি সরকারি সারভেয়ার ও আরো একাধিক সারভেয়ার দিয়ে নালিশা ভূমিতে জরিপ চালাই,জরিপে ০৬৫০ (সাড়ে ছয়শতক ভূমি) আমার বেদখল হিসাবে পাই।তন্মধ্যে,স্থানীয় মূত অনিল দের স্ত্রী ও ছেলেরা “সাড়ে তিন শতক” বসতবাড়ি নিয়ে দখলে ছিলো এবং মখছুছ চৌধুরীর দখলে ছিলো “তিন শতক”।

মৃত অনিল দের পরিবার জরিপ মেনে নিয়ে আপোষ মিমাংসা করতে চাইলে আমরা তাদের দখলে থাকা অংশটি সাবকাবালা দলিল করে দিয়ে বৈধতা দেই।কিন্তু একই দাগ সমুহ দখলে থাকা মখছুছ চৌধুরী জরিপ অস্বীকার করে আমাকে হুমকি ধামকি প্রদান করেন।মখছুছ চৌধুরী মুলত আমার মেয়াদী ভুমির উপর ভর করে সরকারী খাস খতিয়ানে চলে যাওয়া তার পার্শ্ববর্তী দাগসমুহ নিজ দখলে রাখতে এই কৌশল করেছেন। তারপর আমি স্থানীয় সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সহযোগিতা নিয়ে সামাজিক চাপ প্রয়োগ করে উনাকে শালিসি জরিপে বাধ্য করি এবং লিখিত শর্ত আদায় করি। উভয়পক্ষের ৪ জন সার্ভেয়ার প্রায় ৩ মাস ধরে ৬ বার জরীপ করে আমাকে ৩ শতকের স্থলে.০২৫০ (আড়াই শতক) ভুমি তার দখলে আছে বলে রায় দেন এবং সালিশগণ আমাকে তাদের লিখিত সালিশনামা প্রদান করেন।সালিশগণ আমাদের আপোষে বসার ও ব্যবস্থা করেন। আপোষে বসে মখছুছ গংরা কোন প্রস্তাব না মেনে উল্টো টালবাহানা করে কোনরুপ সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টা ধামাচাপা দেবার অপচেষ্টা লিপ্ত থাকেন।

চলতি বছরে আমি নিরুপায় হয়ে বিগত ২১/১২/২০ ইং তারিখে তার ব্যবসায়ীক স্কুলে তালা মেরে দেই এবং স্কুলের নাম লেখা সাইন মুছে ফেলি।

এর পূর্বে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। স্কুলে তালা মারার পর তারা থানায় জানালে এস আই রায়হান এসে জায়গা পরিদর্শন করেন এবং তালা অবস্থায় রেখে আমাকে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। অপরপক্ষকেও এখানে না আসার নির্দেশ দেন শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। উভয় পক্ষকে যার যার কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাবার কথা বলে চলে যান। আমিও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যাই। এ অবস্থা চলার এক পর্যায়ে বিকেল ৩.৩০ মিনিটে মখছুছ চৌধুরী প্রায় ২৫-৩০ জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে উক্ত জায়গায় আক্রমন করে তালা ভেঙ্গে স্কুল গৃহে ঢুকে পড়ে।

আমি থানায় জানালে পুনরায় ফোর্স সহ এসআই রায়হান এসে পুনরায তালা মেরে চাবি তথাকথিত স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে চাবি জমা দিয়ে চলে যান! থানায় গিয়ে আমরা উভয়পক্ষ স্থানীয় সালিশসহ এস আই রায়হানের মধ্যস্থতায় বসি এবং সিদ্ধান্ত হয় আগামী সোমবার উভয়পক্ষ আপোষে বসে মীমাংসা করবে মধ্যস্থতা কারীর উপস্থিতিতে।

এই মধ্যস্থতাকারীর মাঝে বিবাদী আপন চাচাত ভাইকে মুল বিচারক বানিয়ে দিয়েছেন! কিন্তু দূঃখের বিষয় থানার এস আই স্কুলের চাবি দখলকারীর হাতে দিয়ে পুনরায় স্কুলটি সমঝিয়ে দিয়েছেন ছাত্র ছাত্রীদের স্বার্থে, অথচ করোনা সংক্রমণ এড়াতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অনলাইনে ও অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বর্ধিত করেছেন!

দখলকারীরা আমাকে হেনস্তা করতে মানববন্ধন সহ মিথ্যা খবর পরিবেশন করছেন এবং প্রতিনিয়ত বিএনপি জামাতের চিন্হিত গুন্ডাদের দিয়ে হুমকি দিয়ে চলেছেন। দখল হওয়া জমি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী খন্দকার শফিউল ইসলাম।

এ ব্যপারে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার এ এস আই রায়হান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান ,যে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে সেই জায়গার মালিক মরহুম শামসুদ্দিন আহমদ খন্দকার ।  লুটপাট বাংচুরের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এসব দেখিনি তবে এটা সত্য জায়গার মালিক শামসুদ্দিন আহমদ খন্দকার , আমার সাথে এস আই পবিত্রস আরো অনেকেই ছিলাম , আমি গিয়ে তালা দেয়ে আসি কিন্তু কিছুক্ষন পর সুনি মখছুছ চৌধরী গংরা তালা বাইংগা তারা কিন্ডারগার্ডেনে অবস্থান করছেন, এ এস আই রায়হান আর বলেন আমি দুই পক্ষকে আসতে বলছিলাম রাসেল গংরা আসলেও আসেননি মখছুছ চৈধরী।

মন্তব্য
Loading...