Sylhet Express

সবজির বাজারে আগুন,আলু পোড়া ব্রয়লার মুরগি যেন গ্রিল

0 ৭৫

সবজির বাজারে আগুন। লাগাম ছাড়া পেঁয়াজ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আদা, রসুনের দাম। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলেও অস্বস্তি। নতুন করে দামের আগুনে পুড়ছে আলু, গ্রিল হচ্ছে যেন ব্রয়লার মুরগিও। তার ওপর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার থাকায় গতকাল ক্রেতার ভিড়ে ছিল না দর কষাকষির সুযোগ। সব মিলিয়ে বাজারে গিয়ে পকেট সাফাই হলেও এক প্রকার ফাঁকা ব্যাগ নিয়েই ফিরতে হয় সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে। গতকাল মালিবাগ, কারওয়ানবাজারসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের আয় কম। অনেকেই নতুন করে নেমেছেন দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাই বাধ্য হয়ে বাজার খরচে হতে হচ্ছে মিতব্যায়ী; কিন্তু বাজারে কম দামে কিছুই মিলছে না। এমন দিনে সবজির ওপর অনেকে নির্ভরশীল হলেও সেই সবজির দামেও আগুন। সেই সঙ্গে মোটা চাল, ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বাজারে গিয়ে কিছুতেই যেন মিলছে না হিসাব। মালিবাগ বাজারে সবজি কিনতে আসা মো. রজব আলী বলেন, ‘ভ্যান চালাইয়া দিনে কয় টাকাই বা কামাই। এখন ইনকামও কম। বাজারে যেইটার দাম জিগাই হেইডাই ৬০ টাকার উপরে। এখন ৭০-৮০ টাকা দিয়াতো আর তরকারি কেনার সাইধ্য নাই আমার। আলু খাইয়া যে বাঁচবো, সেই আলুর দামও এখন ৪০ টাকা। উপায় না দেইখা একহালি কাঁচাকলা আর লালশাক কিইনা বাড়ি ফিরতাছি।’

পোশাক কারখানার শ্রমিক আফসানা আক্তার বলেন, ‘কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা। পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হইছে। আলুর দামও বাড়তি। ৮ টাকার শাকপাতাও এখন ২০ টাকার ওপরে। দোকানদার কয়- নিলে নেন, না নিলে না নেন। দামদর করার সুযোগ নাই। এমন হলে আমরা কীভাবে বাচবো। বাজারে এসে এক-দুই পদের তরকারি নিয়াই বাড়ি ফিরি। তা-ও পোয়া (আড়াইশ গ্রাম) ওজনের কিনতে হয়।’

কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, প্রতিকেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। শতকের ওপরে রয়েছে পাকা টমেটো ও গাজরের দাম। পাকা টমেটোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বাজারে এখনো ঝাল কমেনি কাঁচামরিচের,২৫০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মানভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। অন্যদিকে বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০, উস্তা ৭০ থেকে ১০০, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি (ছোট) প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া অর্ধশতকের ঘরে রয়েছে পটোল ও কাঁকরোলের দাম।

আলুর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ১ থেকে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়া আলু এখন ৩৬ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের আগে এমন সময় আলুর দাম সাধারণত ৩০ টাকা হয়ে থাকে; কিন্তু এবার দাম বাড়তি।
এখনো অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ভারতীয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। অন্যদিকে দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ ও চীনা রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চীনা আদা প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২৪০ এবং ভারতীয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।

গত সপ্তাহে দাম বাড়া ব্রয়লার মুরগি আরও উঁচুতে উঠেছে। কেজিতে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা বাড়িয়ে এখন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। তার আগে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হতো। বাজারে ডিমের দামও বাড়তি।

ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। গরিবের মোটা চালের কেজি এখন ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা। এ ছাড়া মাঝারি চাল ৫০ থেকে ৫৩ এবং সরু চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। গত মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কোম্পানিগুলো লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোয় নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে তেল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা।

মহামারীর মন্দার সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশাহারা সাধারণ ভোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে অতিদরিদ্ররা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দায়সারা মনিটরিং ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও মনযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কনসাস কনজুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম এখন সীমিত আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। দাম কমছেই না, উল্টো বাড়ছে। পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সাধারণ মানুষ আজ হতাশ। এ অবস্থায় দায়সারা অভিযান আর টিসিবির পেঁয়াজে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আসবে না।’অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আগে পেঁয়াজকা-সহ বিভিন্ন সময় কারসাজিবাজদের তালিকা হয়েছে; কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি। এতে সিন্ডিকেট চক্র আরও সাহসী হয়ে উঠছে। করোনায় মানুষের আয় কমে গেছে। ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনবেলা খেতে পারছে না দরিদ্র পরিবারগুলো। তাই মহামারীকালে মানুষের জীবনযাপনের সুবিধার্থে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। কেবল অভিযান চালিয়ে এক-দুইজনকে জরিমানা করলেই হবে না, সরকারের উচিত এখনই শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া।

মন্তব্য
Loading...