Sylhet Express

কোম্পানীগঞ্জে ১ সড়কের জন্য ভোগান্তি ১৫ হাজার মানুষের

0 ৮৮

কোম্পানীগঞ্জের ৬নং দক্ষিন রনিখাই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দরাকুল হয়ে নওয়াগাও এলাকা পর্যন্ত একটি গ্রামীণ সড়কের অভাবে চরম ভোগান্তিতে আছেন স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ হাজার স্থানীয় জনসাধারণ।সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্তা গড়ে না উঠায় স্থানীয়দের পাশাপাশি ভোগান্তিতে আছেন পাশর্^বতী গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাও ইউনিয়নের নওয়াগাও, নন্দিরগাও, আঙ্গারজুর এলাকার চলাচলকারী মানুষজনও।

দীর্ঘদিন থেকে সড়ক নির্মানের দাবি জানিয়ে আসলেও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় স্থানীয়রা চলাচল করেন ফসলের ক্ষেতের আল ধরে। সড়ক না থাকায় কাদা পানি মাড়িয়ে দূরবর্তী দশগাও নওয়াগাও,সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদরাসায় গিয়ে পড়াশুনাও করে এলাকার অগণিত শিক্ষার্থীরা। সরজমিনে বুধবার ঘুরে দেখা যায় এলাকার মানুষজনের যাতায়াত বিড়ম্বনার এমন দুর্ভোগের চিত্র।

জানা যায়,সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের ৬নং দক্ষিন রনিখাই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দরাকুল,সুন্দাউরা,মহেষখেড় এলাকার বিরাট একটি অংশের জনসাধারণ চলাচল করেন দরাকুল হয়ে গোয়াইনঘাটের নওয়াগাও গ্রামের ভেতর দিয়ে। বানিজ্যীক কৃষি, শিক্ষা, সামাজিক, আত্মীয়তাসহ নানা কারণে দরাকুল, সুন্দাউরা, মহেষখেড়, নোয়াগাও, আঙ্গারজুর, নন্দিরগাও এলাকায় পর্যন্ত চলাচল করেন উভয় এলাকার ১০-১৫ হাজার মানুষজন। কিন্তু উক্ত এলাকায় নেই কোন গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সহজতর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় স্থানীয় উভয উপজেলার এসব মানুষজন দীর্ঘকাল থেকে চরম জনদুর্ভোগ ভোগান্তিতে পড়ে আছেন।

তাদের ন্যায্য এ দাবিটি বাস্তবায়নে আলোরমুখ দেখছেনা সুদীর্ঘকাল থেকে। তাদের জনগুরুত্বপূর্ন এ দাবি বার বার উপেক্ষিত হয়ে আসছে। দরাকুল গ্রামের মুরুব্বী শফিকুর রহমান (সরকার),সরকুম আলী,মোশাহিদ আলী,সালুটিকর বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী কবির আহমদ জানান,গ্রামীন এই সড়কটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন থেকে আমাদের এ দাবিটি উপেক্ষিত হয়ে আসছে।
দশগাও নওয়াগাও স্কুল এন্ড কলেজেরএকাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সুজন দাশ,হাফসা বেগম,এনাম আহমদ,সুমি দাস,মিলাদ আহমদরা জানান,আমাদের বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী কোন সড়ক নেই। কাদাপানি মাড়িয়েই আমরা সব সময় স্কুলে গিয়ে থাকি,আমাদের কষ্টগুলো যেন দেখার কেউ নেই। দরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা বেগম জানান,উক্ত গ্রামের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী সড়ক নেই। তাই পথচারীর পাশাপাশি শিক্ষার্থী,শিক্ষকরাও চরম দুর্ভোগ ভোগান্তির মধ্য আছি। কাদা পানি মাড়িয়ে সব সময় আমাদের স্কুলে আসতে হয়।এব্যাপারে কথা হলেওয়ার্ড ইউপি সদস্যশাহিন আহমদ জানান,বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে আমাদের কষ্টের কারণ।

তাছাড়া বর্তমানে সব ধরণের উন্নয়ন বরাদ্ধ বন্ধ থাকায় আমাদের ইউনিয়নের তরফে এই রাস্তার কাজ শুরু করাও সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়নে আমি ভুমিকা পালন করবো।

সরজমিনে পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি জানান,সড়কটি বাস্তবায়িত হলে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জের এই পাশাপাশি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন,আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নেও সড়কটি ভুমিকা পালন করবে। তাই তারাদ্রুত প্রকল্প গ্রহণ স্বাপেক্ষ উক্ত জনগুরুত্বপূর্ন গ্রামীন এই সড়কটি বাস্তবায়নে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এই গ্রামীণ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী ও বর্তমান ৭নং নন্দিরগাঁও ইউ/পি চেয়ারম্যান এস,কামরুল হাসান আমিরুল সহ দরাকুল গ্রামবাসীর সমন্বয়ে রাস্তা নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু উনার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তীতে এই পদক্ষেপের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। চরম ভোক্তভোগী গ্রামবাসীরা হয়ে পড়ে নেতৃত্ব হারা, ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। দুই উপজেলা এবং দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় জনপ্রতিনিধিগণ পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খান। বিধায় এলাকাবাসী ও গ্রামবাসী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

মন্তব্য
Loading...