হায় হোসেন হায় হোসেন ধ্বনিতে মূখরিত ইমামবাড়া চত্বর: পবিত্র আশুরা পালন

মোঃ নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া:: ইমামবাড়া চত্বরে হায় হোসেন হায় হোসেন ধ্বনিতে মূখরিত আর নিজ শরীর রক্তাত্ব করে কুলাউড়ার পৃথিমপাশার শিয়াসম্প্রদায়ের মুসলমানরা পালন করলো ১০ মহরম পবিত্র আশুরা।দীর্ঘ চারশত বছরেরও বেশী সময়ধরে পবিত্র আশুরা পালন করে আসছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের নবাব বাড়ি। এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি পালন করেছে সেখানকার শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

রবিবার (৩০ আগষ্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ধমর্ীয় ভাবগাম্বীর্যে সীমিত পরিসরে পালন করা হয়েছে দিবসটি। অন্যান্য বছর নবাব বাড়িতে কয়েক লক্ষ মানুষের পদচারনায় মুখরিত হলেও করোনায় এবার তেমন উপস্থিতি ছিলোনা। পৃথিমপাশা নবাব বাড়িতে প্রবেশও ছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কড়া নজরদারি।

এবার হাতির বহর আর বাদ্য যন্ত্রছাড়াই পালন করা হয়েছে দিবসটি। প্রতিবার এ দিবসটি উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায় সু-সজ্জিত তাজিয়া মিছিলকরে থাকে। এ বছর আশুরা এসেছে করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে। সংক্রমণের আশঙ্কায় সরকার তাজিয়া মিছিল করার অনুমতি দেয়নি, ফলে শিয়া সম্প্রদায়ও রাস্তায় তাজিয়া মিছিল বের না করে নবাব বাড়ির হোসেনি দালানে অবস্থিত ইমামবাড়া চত্বরে তাদের কর্মসূচি সীমিত রাখে। তাদের মিছিলে অংশ নেয় তরফি সাহেব বাড়ির আলম মিছিল।

রবিবার ১০ মহরম বেলাসাড়ে ৪টায় পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির হোসেনি দালান থেকে ধমর্ীয় ভাবগাম্বীর্যের মধ্য দিয়ে বের হয় সীমিত তাজিয়া মিছিল। শিয়া সম্প্রদায়ের সামান্য সংখ্যক পুরুষ যুদ্ধের নানা অনুসঙ্গ, তাজিয়া, কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে মিছিলে অংশ নেয়। পা নগ্ন রেখে মিছিলে অশংগ্রহণকারীরা শোকের প্রতীক কালো পোষাক পরিধান করে।

কারবালার নির্মম হত্যাকান্ড ও ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদৎ বরণে শোকে কাতর হয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা ধারালো ছোরাগুচ্ছ রশিতে বেধে নিজের শরীরকে অবলীলায় রক্তাত্ব করে। ফলে বুক ও পিঠ থেকে ঝরে রক্ত। কারো কারো কালো জামা রক্তে ভিজে চুপসে গেছে আর সাদা জামা হয়ে উঠে রক্তে লালে-লাল। তবুও ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস। তাজিয়া মিছিলে বুক চাপড়ে, জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে প্রকাশ করা হয় মাতম।

এতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত ছিলো পৃথিমপাশার নবাব বাড়ি। উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়াউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটি এম ফরহাদ চৌধুরী ও কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ার দৌস হাসান।

এদিকে শান্তিপূর্ণূ ভাবে আশুরা পালিত হওয়ায় নবাববাড়ির পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উক্ত অনুষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি নবাব আলী আব্বাছ খঁান।

অপরদিকে ১ মহরম থেকে ১০ মহরম পযন্র্Í নবাব বাড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিলো জিগির আজগার, কোরআনে তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কাঙ্গালী ভোজ সহ নফল নামাজ ও রোজা।

উল্লেখ্য, কথিত আছে প্রায় ১ হাজার ৩৩২ বছর আগে আরবি মহরম মাসের ১০ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার ৭২ অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। সে দিন থেকেই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্য শোকাবহ, হৃদয় বিদারক হয়ে উঠে মুসলিম উম্মার জন্য এবং সত্য ন্যায় ও ইসলামের আদর্শকে উর্ধ্বে তুলে ধরার দিন ১০ মহরম। এ দিনের শোক স্মৃতিকে স্মরণ করে সারাবিশ্বেও মুসলমানরা দিনটিকে পবিত্র আশুরা হিসাবে পালন করে আসছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.