Sylhet Express

দুর্ঘটনা রোধে ওসমানীনগর থানার প্রশংসনীয় উদ্যোগ

0 ১০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের সাদিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ আগস্ট রাতে ৬ জন নিহত হওয়ার পর বদলে যাচ্ছে ওসমানীনগর। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগী হয়েছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ওসি শ্যামল বণিক সচেতনতামূলক সভা, রাস্তার পাশ থেকে নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ ও চালকদের সড়ক আইন সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা দিচ্ছেন। থানা পুলিশের এমন ভূমিকা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। উপজেলার সাদিপুরে সড়ক দুর্ঘটনার পর ওসমানীনগর থানা পুলিশ তৎপর হয়েছে। বিশ্বরোডে কমে গেছে অটোরিকশা চলাচল। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে একাধিকজন বলেন, অতীতেও দেখা গেছে দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন বিশ্বরোডে অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে বিশ্বরোডের পরিবেশ।

আমাদের অসচেতনতা ওই ঘটনার জন্যে অনেকটা দায়ী। এদিকে, অনেক সময় দেখা যায় গ্রামীণ জনপদ থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ করেন কোনো যাত্রী। পরে ওই অটোরিকশা নিয়ে বিশ্বরোড হয়ে গন্তব্যে রওয়ানা হন। প্রতিনিয়ত, প্রতিটা মুহূর্ত ওই সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। যার জন্যে বিশ্বরোডে দেখা দেয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই ক্ষেত্রে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে আগে। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক সাদিপুরের দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, এই কদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬টি প্রাণ ঝরে গেল ওসমানীনগরে। বিষয়টি প্রচন্ডভাবে মনে আঘাত করেছে। বিশ্ব রোডে নজরদারি করার দায়িত্ব থানা পুলিশের নয়। কিন্তু ওই দুর্ঘটনার পর ভাবলাম এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না।

পর থেকে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাচ্ছি। বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছি। ১৭ আগস্টও ৫টি মিটিং করেছি। এসব মিটিং ছিল নানান বিষয়ে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিশ্বরোডসহ গ্রামীণ রাস্তার অবৈধ যানবাহন।

এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে অবৈধ অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা।ভাবতে অবাক লাগে যখন দেখা যায়, শেরপুর ব্রিজের উপর ব্যাটারি চালিত রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। এসব যানবাহন বিশ্বরোডে উঠে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি সৃষ্টি করে। পুলিশের গাড়ি দেখলে তারা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে শতভাগ। ওই দৃশ্য কী যে অমানবিক দেখায়, তা না দেখলে বুঝানো যাবে না। অভিযানে নেমে অবৈধ যানবাহনের চালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করাটাও অমানবিক। অথচ ৫ হাজার টাকার নিচে জরিমানা করার সুযোগ নেই। কিন্তু ওই ৫ হাজার টাকা রোজগার করতে এক মাস কাজ করতে হবে ওই চালককে। তাই তাদের প্রতি অমানবিক হতে ইচ্ছে হয় না।

ওই অবস্থায় কী করণীয় তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষকে রক্ষা করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমি সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি। থানার সকল মহলের সহযোগিতা নিয়ে প্রাথমিকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে চলেছি।এর পরপরই ওইসব যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। এ জন্যে প্রয়োজন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা। অবশ্যই আমরা সফল হবো।

মন্তব্য
Loading...