Sylhet Express

মায়ের চিকিৎসার জন্য সুদে টাকা নিয়ে ভিটেমাটি হারা

0 ১৪৯

নিউজ ডেস্কঃ মা ছিলেন ভীষণ অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা করানোর টাকার জন্য বাধ্য হয়ে এক সুদ কারবারি কাছে যাই। ৩৫ হাজার টাকায় তাকে সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজার টাকা সুদ দিতে হয়। এভাবে জড়িয়ে যাই কারেন্ট সুদ নামের রাহুগ্রাসে। সেই ৩৫ হাজার টাকার সুদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিছি। ওই টাকা দেওয়ার জন্য আরো চার পাঁচ জনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিছি। মা মরে গেছে। টাকা পরিশোধ করতি ভিটেমাটি হারাইছি। আজ আমি বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পরের আশ্রয়ে আছি। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সুদের এমন নির্মম কাহিনীর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিবশংকর বিশ্বাস (৪১)।

চিতলমারী সদর ইউনিয়নের কুরমনি গ্রামের শীতল বিশ্বাসের ছেলে কৃষক শিব শংকর আরো জানান, কুরমনি মৌজায় তাদের ১৫ শতক বসতভিটা ও ৬৪ শতক চাষের জমি ছিল। মা, ছোট ভাই দিপঙ্কর ও স্ত্রী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সুখ-শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে মায়ের অসুস্থতার কারণে সুদ কারবারীদের জালে জড়িয়ে পড়েন। সুদখোরদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনে বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি জমি বিক্রি করে সুদের টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তাকে নিজ গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়েছে। তিনি এখন নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ও চতুর্থ শ্রেণির ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চরবানিয়ারী ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

কারেন্ট সুদের ব্যবসা অবৈধ। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।সরকারি নিবন্ধনহীন ব্যক্তি-সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনও অভিযান শুরু করেছে। যদিও ইতিমধ্যে ওই কারবারিদের বিরুদ্ধে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসিকনা বিশ্বাস আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় আটককৃত দুই আসামি জামিন পেয়ে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।চিতলমারী থানার পরিদর্শক মীর শরিফুল হক জানান, মাদক ও অবৈধ সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চিতলমারী থেকে এদের উচ্ছেদ করা হবে।

মন্তব্য
Loading...