Sylhet Express

নির্দেশনা উপেক্ষা করে খোলা সিলেট স্টেশন ক্লাবের ‘বার’

0 ১০৬

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব হোটেল বার, রেস্টুরেন্ট বার ও ক্লাব বার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে সিলেট স্টেশন ক্লাব।গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সরকারি নির্দেনা অমান্য করে এ মদের বার চালু করে আমদ ফূর্তিতে মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট সদর উদ্দিন চৌধুরী, মেম্বার (ম্যানেজমেন্ট) এনায়েত আহমদ ও সদস্য শাহ মো. মোশাইদ আলীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অনেক অভিযোগ করেছেন।জানা যায়, দেশে মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৯ মার্চ দেশের সকল হোটেল বার, রেস্টুরেন্ট বার ও ক্লাব বার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে উপপরিচালক মো. মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব হোটেল বার, রেস্টুরেন্ট বার ও ক্লাব বার আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হলো। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে।’ কিন্তু ক্রমেই দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়। কিন্তু সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে বার চালু করেছে সিলেট স্টেশন ক্লাব। সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অদূরেই অবস্থিত এ ক্লাবটি চালু করে চালানো হচ্ছে ক্লাবের বারটি। স্বাস্থ্যবিধি অগ্রাহ্য করে প্রায়ই ৩০-৩৫ জন লোক এ ক্লাবে প্রবেশ করে মদ্যপান, তাসের আসরসহ আমোদ-ফূর্তিতে মেতে ওঠেন। প্রতিনিয়ত ক্লাবে এমন কার্যক্রম চললেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট স্টেশন ক্লাবের এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারিভাবে সকল বার বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সিলেট স্টেশন ক্লাবটি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেড প্রেসিডেন্ট সদর উদ্দিন চৌধুরী, মেম্বার (ম্যানেজমেন্ট) এনায়েত আহমদ ও সদস্য শাহ মো. মোশাইদ আলী মদের বার খুলে রাখেন। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ১০-১২ জন মানুষ মদের বার খুলে মদ্যপান করাসহ তাসের আসর জমায়। ফলে প্রতিদিন এ বারে লোক সমাগম ঘটে।

এ ছাড়া এ ক্লাবে যাতায়াত ছিল জামাল আহমেদ নামের একজন বেশ কয়েকদিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাই এখান থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও করেন ক্লাবের এই সদস্য।এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেট স্টেশনের ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সদর উদ্দিন চৌধুরী, মেম্বার (ম্যানেজমেন্ট) এনায়েত আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেট স্টেশনের ক্লাবের সদস্য শাহ মো. মোশাইদ আলীর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এদিকে, সিলেট স্টেশনের ক্লাবের খোলার বিষয়ে ক্লাবের ম্যানেজার পরাগ কান্তি দেবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য
Loading...