Sylhet Express

৯০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সিলেটের খালেদ

0 ১৭২

সিলেটে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বিশ্বনাথের তবারক আলী তিন মাস ধরে কারান্তরীণ। একের পর এক ইয়াবার চালান আটকের পর তার নাম রাতারাতি পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত সে গ্রেপ্তার হয়েছে। ইয়াবার চালান সহ গ্রেপ্তার হয়েছিলো তার স্ত্রী সাবিনাও। কিন্তু সাবিনা জামিনে বেরিয়ে আসার পর আরো দুটি ইয়াবার চালান আটক হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে সিলেটে পুলিশও আটক করেছে ৩০ হাজার পিসের ইয়াবার চালান। এই চালান মিলেছে তবারকের প্রধান সহযোগী দুলু মিয়ার ভাই খালেদ আহমদের কাছে। ইয়াবার চালান আটকের পর আবারো এসেছে কারান্তরীণ থাকা তবারকের নেটওয়ার্কের নাম।

পুলিশের ধারণা- তবারক কারাগারে থাকলেও তার নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়। এ ব্যাপারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৩০ হাজার পিস ইয়াবার চালান আটকের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি ইয়াবার চালান আটক অভিযানের তথ্য দেন।

এ সময় পুলিশ সুপার জানান, সিলেটের বিশ্বনাথের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী তবারক আলী তিন মাস ধরে কারান্তরীণ রয়েছে। কিন্তু বাইরে ছিল তবারকের আরেক সহযোগী দুলু মিয়া। সে বাইরে থেকে ইয়াবা বিক্রির কাজ করছিলো। দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সে বুধবার আত্মসমর্পণ করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এই অবস্থায় বুধবার গোয়েন্দা সূত্রে জেলা পুলিশের কাছে খবর আসে ৩০ হাজার পিস ইয়াবার চালানের কথা। এই ইয়াবার চালান সিলেটের বিশ্বনাথের খালেদ আহমদের কাছে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই খবরের ভিত্তিতে সিলেটের পুলিশ খালেদের খোঁজে বিশ্বনাথে অভিযান চালায়। বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালালে খালেদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে অভিযানে থাকা পুলিশ দল ধাওয়া করে তাকে আটক করে। আটকের পর খালেদ প্রথমে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে সে ইয়াবার চালানের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। পুলিশ স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে খালেদের বাড়িতে যায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে খালেদের বসতঘরের আলমিরার ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবার চালান উদ্ধার করে। তিনি জানান, ভাই দুলুর মতো খালেদও একজন মাদক ব্যবসায়ী। ওই ইয়াবার চালান থেকে সে ২৯ হাজার টাকার ইয়াবা স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে খুচরা দরে বিক্রি করেছে। পুলিশ এ সময় নগদ ২৯ হাজার টাকাও জব্দ করে। আটক ইয়াবার চালানগুলো পূর্বের আটককৃত ইয়াবার চালানের মতো। তার ধারণা- এই ইয়াবার চালান মিয়ানমারের হতে পারে। পুলিশ অভিযানের পর সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। এদিকে ইয়াবার চালান আটকের পর পুলিশ বিশ্বনাথ থানায় মামলা করেছে। ওই মামলায় আসামি খালেদকে গতকাল দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মো. খালেদ বিশ্বনাথ উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের মূল্য আনুমানিক ৯০ লাখ টাকা। পুলিশ ইয়াবার চালান বহনে নিয়োজিত একটি মোটরসাইকেলও আটক করেছে। বিশ্বনাথের আল হেরা শপিং সিটি এলাকা থেকে ওই মোটরসাইকেলটি আটক করে।

বিশ্বনাথের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী তবারক ও তার স্ত্রী সাবিনা আটকের পর এই চক্রের সদস্যরা গাঢাকা দিয়েছিলো। বিশ্বনাথে তাদের কর্মকাণ্ড কমে এসেছিলো। এমনকি প্রকাশ্যে তাদের দেখা যেতো না। কিন্তু এক মাস আগে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছে তবারকের স্ত্রী সাবিনা বেগম। সে বেরিয়ে আসার পরপরই আবার সরব হয়েছে সিন্ডিকেট। গত ২৭শে জুন নরসিংদীতে ২৭ হাজার পিস ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে আজির উদ্দিন সহ ৪ জন। আটকের পর তারা এই চালানের মালিক হিসেবে কারাগারে থাকা তবারকের নাম জানায়। কক্সবাজার থেকে এই ইয়াবার চালান নিয়ে আসা হচ্ছিলো বলে পুলিশ জানায়।

মন্তব্য
Loading...