বালাগঞ্জ হাসপাতালে অনিয়ম দূর্নীতি তদন্ত নিয়ে মুখ খুলছেন না কর্তৃপক্ষ

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশকিছু দিন থেকে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে দেশের অনলাইন গনমাধ্যমে ওঠেছে সমালোচনার ঝড়। সিলেটের নিউজ পোর্টাল সুরমানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সাউথইষ্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম সহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে।

গত ২৫ জুন ‘করোনার দুঃসময়ে বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে লাখ টাকা হরিলুট! ’এর পর গত ৩ জুলাই ‘ বালাগঞ্জ হাসপাতালে রোগীদের ভাতের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে চিড়া’ আর সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই ‘বালাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : অফিস টাইমে প্রাইভেট চেম্বার করেন ডাঃ মামুন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

গত ২৫ জুন “খাবার সরবরাহে অনিয়ম” সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ জুন নিজেদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। যোগাযোগ করেও আজ পর্যন্ত কি তদন্ত হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

এ নিয়ে টিএইচও এবং তদন্ত কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য হাসপাতালের সহকারী ডেন্ডাল সার্জন ডাক্তার অসিত কুমার রায় বলেছেন, রিপোর্টের কাজ এখনও চলতেছে, প্রতিবেদক কে অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলেন তিনি। এব্যাপারে কথা না বলতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছেন। তারপর তিনি রিপোর্ট জমা হয়েছে সেটি স্বীকার করেছেন।তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য হাসপাতালের অফিস সহকারী মো: রুহুল আমিন বলেন, রিপোর্ট জমা দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে প্রতিবেদক কে অফিসে এসে কথা বলতে বলেন তিনি। এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে এব্যাপার কথা না বলতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি বোয়ালজুড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডা.শুভাশীষ ভৌমিক বলেছেন,তদন্তে সময় লাগবে এজন্য সময় বর্ধিত করা হয়েছিল, তদন্ত শেষ হলেই প্রতিবেদন দেয়া হবে। এর বাহিরে আর কিছু বলতে পারবেন না তিনি।এবিষয়ে টিএইচও ডা.এস.এম শাহরিয়ার বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে এটি বিষয় ফোনে কথা বলা যাবেনা অফিসে আসেন।

অপরদিকে তদন্ত কমিটি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে ভিন্ন খবর, ডা. শুভাশীষ কুমার ভৌমিকের কর্মস্থল বোয়ালজুড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে থাকলেও গত প্রায় তিন মাসেরও বেশী সময় ধরে তাকে কর্মস্থলে দেখা যায়নি।বালাগঞ্জ হাসপাতালে অনিয়মের একটি সিন্ডিকেট তৈরির প্রসঙ্গে বললে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগকে সচল রাখতে আমাদের এত ত্যাগ ও পরিশ্রম কিছু মানুষের জন্য ব্যর্থ হতে পারেনা। এখানে কোন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে কিনা, হলে সব ভেঙ্গে দেব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.