Sylhet Express

দক্ষিণ সুরমায় অবৈধ পাথর বাণিজ্যে অভিযান,কোটি টাকার মালামাল ধ্বংস

0 ১১১

অবশেষে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সেই কর্মকর্তা নতুন পরিচালককে ম্যানেজ করতে পারেন নি। দুপুরেই অভিযান দিতে বাধ্য হয়েছেন বড় কর্তা। আর সেই অভিযানটি হয় সিলেট নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের শাহজালাল ব্রিজ সংলগ্ন কদমতলী ফেরিঘাট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পিছনে গড়ে উঠা পাথররাজ্য ও ক্রাশার মেশিনের স্তুপে।সেই ধ্বংসলীলায় আজ ১৩ জুলাই সোমবার বেলা ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক মোঃ এমরান হোসেন এর নেতৃত্বে এ অভিআন চলে।

অভিযানে ক্রাশার মেশিনের ১৬টি ইঞ্জিন ধ্বংস করে জব্দ, ১৮টি বেল্ট কেটে জব্দ’সহ মোট ৪০টি মেশিন ও বেল্ট ধ্বংস করা হয়। সাথে সাথে ৩৫ হাজার ফুট পাথর জব্দ করেন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। যরি অনুমানিক মুল্য হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা।তবে অভিযান হবে এমন সংবাদ পেয়ে ফেলোডার মেশিনসহ আরো বেশ কিছু মালামাল সড়িয়ে নেয় পাথরখেকোরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের মাধ্যমে অভিযানের সেই তথ্য পাচার হয়।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্রাইম সিলেট, সুরামার ডাক ২৪ নেট ও বাংলার বারুদে গতকাল ১৩ জুলাই সাংবাদিক বাবর হোসেনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর টনক নড়ে পরিবশে অধিদপ্তরের। শুরু হয় নানা নাটকিয়তা। অবশেষে বাধ্য হয়ে ১৩ জুলাই সোমবার অভিযান দেয় পরিবেশ। এর সিলেটের পরিচিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে (এস) নামে নিউজ বন্ধ করার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেন।

অভিযোগ উঠে, সিলেট বিভাগীয় জুনিয়র কেমিস্ট মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে পাথরের অবৈধ ব্যবসায়ীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের পিছনে বেশ কয়েকটি ক্রাশার মেশিন দিয়ে বিরামহীন ভাবে পাথর ভাঙ্গতে থাকেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে লোভাছড়া থেকে চোরাইপথে কোর্গো দিয়ে পাথর এনে এখানে ভেঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো। আর সেই স্থানটি বিশাল ও নিরাপদ পাথর যজ্ঞে পরিণত হয়। চলতে থাকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ পাথর বাণিজ্য। সেখান থেকে লোভাছড়ার আলোচিত পলাশ ও তাঁর সহযোগীরা বিশাল অংকের মুনাফা পেতেন। তারাই প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন দফতর নিয়ন্ত্রন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেখানে ক্ষমতাধর স্থানীয় নজরুল ইসলাম, কবির মিয়া, লিটন, নাসির, কামরুল’সহতাদের সন্তান ও স্বজনরা। তাছাড়া শাহপরাণ থানার মুরাদপুর শাহপরাণ সেতুর নিচে কামাল হোসেনের স্টোন ক্রাশার মিল ও মিরের চক আমির হোসেনের ক্রাশার মিল এবং লায়েক মিয়া ও হেলাল মিয়ার ক্রাশার মিল চলছিলো।গতকালে প্রকাশিত সংবাদ: দক্ষিণ সুরামায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নাকের ডগায় অবৈধ পাথর বাণিজ্য! ইজারাদার সাংবাদিকরা

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন এলাকার রাস্তা ভাঙ্গন ও নদীর চড় ভাঙ্গনের প্রতিবাদে একমাত্র তিনিই প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেন। ওয়ার্ডের কেউ বা কোন সামাজিক সংগঠন মুখ না খুললেও কেবল কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন প্রতিবাদ করেন। তিনি পুলিশ প্রশাসন ও পরিবেশের কর্মকর্তার সাথে বার বার এ নিয়ে কথা বলেছেন। সিসিক মেয়রকে এই বিষয়টি অবগত করেছেন। তাঁর সততা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান ও প্রতিবাদ কিছু সার্থন্নেষী মহল সাধুবাদ না জানালে নগরবাসী কাউন্সিলর লিপনের অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এমনকি নিরপেক্ষ থেকে সবার মন জয় করে নিয়েছেন।

এ ব্যাপরে কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জানিয়ে বলেন, এ অভিযানের ফলে আগামীতে কেউ পরিবেশ ধংস করতে আর সাহস পাবে না। তিনি বলেন, মালামাল আমার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে লিলাম করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ এমরান হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটন নগরীতে এভাবে অবৈধ পাথ কোয়ারী ও ক্রাশার মেশিন বসা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনি। তাই অভিযান দিয়ে ৪০টি যন্ত্রাংস ধ্বংস করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার দুপুরে মালামাল প্রকাশ্যে লিলাম হবে।

মন্তব্য
Loading...