করোনা উপেক্ষা করে জৈন্তাপুরে নৌকা বাইচ, হাজারো মানুষের ঢল

সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জৈন্তাপুরে মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়েও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের উত্তর কাঞ্জর হাওরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কাঞ্জর ভাই ভাই স্পের্টিং ক্লাব নামের একটি সংগঠন।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধিও। এ কারণে উপজেলায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে।দরবস্ত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রকিব জানান, করোনা মহামারিতে এ ধরনের আয়োজন করা ঠিক হয়নি। এতে উপজেলাবাসী করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়লেন।

এদিকে উপজেলার মধ্যে এত বড় প্রতিযোগিতার বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এত বড় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের উত্তর কাঞ্জর হাওরে কাঞ্জর ভাই ভাই স্পের্টিং ক্লাবের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৪টি নৌকা। তাদের মধ্যে পূর্ব গদ্দনা বনাম দক্ষিণ কাঞ্জর এবং পশ্চিম গদ্দনা বনাম উত্তর কাঞ্জর মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচে প্রথম স্থান অর্জন করে পশ্চিম গর্দনা নৌকা।

জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কয়ছর আহমদের পরিচালনায় সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাছির উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, কুতুব উদ্দিন, মো হানিফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কাঞ্জর ভাই ভাই স্পের্টিং ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

নৌকা বাইচ দেখতে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত হতে নৌকা যুগে কয়েক হাজার দর্শক হাওরে উপস্থিত হন। তাদের অনেকেই মাস্ক পরেননি। সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত না করেই গাদাগাদি করে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন হাজারও মানুষ।ঘণ্টাব্যাপী চলা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অর্জনকারী পশ্চিম গর্দনাকে ১টি ঘোড়া পুরস্কার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী উত্তর গর্দনার হাতে একটি ভেড়া পুরস্কার তুলে দেন আয়োজনকারীরা।

করোনার উচ্চমাত্রার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রসঙ্গে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। কেউ থানা পুলিশকে অবগতও করেনি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার খবর তিনি জানেন না। যারা এই করোনাকালেও এমন আয়োজন করেছে খুঁজে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।সুত্র-জাগোনিউজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.