Sylhet Express

দক্ষিণ সুরমায় লন্ডন প্রবাসী কতৃক নিরীহ লোকদের ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

0 ৪৬১

বিশেষ প্রতিবেদক::
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক লন্ডন প্রবাসী কতৃক অসহায় নিরীহ লোকদের ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার মূল হোতা হলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লামাপাড়া গ্রামের মৃত-হাজী ময়না মিয়ার ছেলে লন্ডন প্রবাসী শামছুল ইসলাম ওরফে জামিউল।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, লন্ডন প্রবাসী শামছুল ইসলাম বাপ দাদার ভিটে মাটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন ভাই-ভাতিজাসহ একই বাড়ির সবাইকে নিয়ে রঙ্গমঞ্চ তৈরী করেছেন। অতি লোভের কারনে নিজের আপনজনদের ব্যবহৃত বাড়ীর রাস্তা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। লোকজন চলাচলের রাস্তায় প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন লন্ডন প্রবাসী শামছুল। সেই রাস্তা ঘুরিয়ে দিতে একেক সময় একেক ফন্দি আটছেন তিনি। কখনও আবার সিলেট শহরতলী হতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রাস্তা বন্ধের পায়তারায় করছেন। আবার অনেক সময় কথিত লোকদের ভাড়া করে নিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে বাড়ী ঘর ছাড়াতেও কৌশলগত পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছেন। ধনে জনে বলীয়ান হওয়ায় ওই প্রবাসী স্থানীয় এলাকার লোকদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। আর অব্যাহত রেখেছেন মামলা মোকাদ্দমাসহ হুমকি- দমকির। টাকার বলে সিলেট নগরীতেও গড়ে তুলেছে বড় একটি সিন্ডিকেট সন্ত্রাসী বাহিনী। বর্তমানে তার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
খুজ নিয়ে জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী ও তার পরিবারের অপর সদস্য আলতা মিয়া একই রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। মৌরসী সুত্রে তারা একই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। যে যার মতন করে ওই বাড়ির অংশ ভাগবাটোয়ারা হিসেবে দখলে থেকে সরেজমিন অবস্থানে আছেন। কিন্তু রহস্যজনক হলেও সত্য যে, এরকম অবস্থায় হঠাৎ করে প্রবাসী’ শামছুলের নজর পড়ে আলতা মিয়ার বাড়ি ঘর ও মানুষ চলাচলের ব্যবহৃত রাস্তার দিকে। পরিকল্পনা মাফিক তৈরী করতে থাকেন একের পর এক ষড়যন্ত্রের। তার লক্ষ্য আলতা মিয়া পরিবারের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একসময় সে তার নিকট বাড়িটি বিক্রয় করে তারা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে। সেই লক্ষ্যে লন্ডন প্রবাসী কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যায় করে কখনও স্হানীয় সন্ত্রাসী আবার কখনও ভূয়া গোয়েন্দা পরিচয়দানকারী খলিল নামক এক ব্যক্তিকে দিয়ে হরহামেসা চক্রান্তের জাল বিস্তার করছন । লন্ডন প্রবাসী বর্তমানে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করছেন তার চাচী সালেহা বেগমকে। ঘটনাস্থলের দূত হিসেবে কাজ করছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (কাজলশাহ) এলাকার এক দালাল লিয়াকত আলী গং-রা।
এছাড়া ওই লন্ডন প্রবাসী শামছুলের বিরুদ্ধে আরো গুরুতর বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে, তিনি প্রায় সময় বাংলাদেশ পুলিশ প্রদান (আইজি) সহ অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় এলাকার একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রটি আরো জানায়, আলতা মিয়ার যাতায়াতের রাস্তার পাশে একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর রয়েছে। বিগত ( ১৮ই মার্চ ) রাতে সেই ঘরের একটি দেয়াল ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। অথচ সেই ঘটনাটি সে নিজের লালিত সন্ত্রাসী দিয়ে ঘটিয়েছিলও কি না এনিয়েও স্থানীয়ভাবে রয়েছে গুঞ্জন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে ৯৯৯ নাম্বরে-এ কল দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। অবশেষে এ ঘটনার দীর্ঘদিন পরে একটি মামলা রুজু করান প্রবাসী। সেখানেও থামেননি তিনি, সালেহা বেগমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে থানায় আরও দুটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করিয়েছেন। সর্বশেষ বর্তমান করোনা মহামারীতে চলমান লকডাউনের মধ্যেও রাস্তা বন্ধ করতে ভাড়াটিয়া লোক নিয়োগ করেন শামছুল। কিন্তু সেইদিন করোনাভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে আলতা মিয়ার ছেলেসহ স্থানীয়রা একযোগে ভাড়াটিয়া লোকদের প্রতিহত করেন। পরে এ ঘটনাকেও নাটক সাজানোর চেষ্টা করে ৯৯৯-এ কল দেন সালেহা বেগম। পরিশেষে পুলিশ সরেজমিনে গেলে নাটকিয় ঘটনার সত্যতা পায়। এমন অবস্থায় আলতা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা লন্ডন প্রবাসীর রোষানলে পড়ে চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভুগছেন। তারা বলেন যেকোন সময় তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন গুমের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে প্রবাসী শামছুল।
এ ব্যাপারে আলতা মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ (৪২) মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, আমরা একই পরিবারের সবাই। আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে শামছুল চাচা রাস্তা বন্ধ করার পায়তারা করছেন। তিনি অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক। তার আরেক ভাই মনির সালেহা বেগমের মেয়েকে বিয়ে করার সুবাদে তিনি প্র্রবাসে থেকেও সালেহা বেগমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। তার টাকা পয়সা বেশি হওয়াতে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে মামলা মোকাদ্দমা ও প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রাখছেন। এসময় তিনি বলেন, এ রাস্তাটি আমাদের পূর্বপুরুষগণও ব্যাবহার করে গেছেন কেউ কোনদিন আপত্তি করে নি। কিন্তু ইদানিং তিনি লন্ডনে বসে মোবাইলযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে আমাদেরকে মিথ্যা হয়রানি করছেন। তখন হেলাল আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

মন্তব্য
Loading...