Sylhet Express

মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেট নগরবাসী

0 ১,৩৫২

নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সৈদানিবাগ,তেররতন,পশ্চিম তেররতন,সাদারপাড়া,এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি বলে জানিয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। সিলেট নগরীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। নগরের প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায়ও দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সন্ধ্যার পর পরই মশার উপদ্রব দিগুণ হয়ে যায়।এবছর শীত শেষ হওয়ার পর থেকেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করলেও এখনো এর ফল পায়নি নগরবাসী।নগরবাসীর অভিযোগ, সিসিকের মশক নিধন শাখার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে মশক নিধন কার্যক্রমের কোনো সুফল আসে না। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যারা মশার ওষুধ ছিটান তারা বেশিরভাগই অদক্ষ এবং কমবয়সী। যার ফলে কর্মীরা বাসার পিছনের ড্রেনে স্প্রে না করে বাসা বাড়ির সামনে ওষুধ ছিটিয়ে চলে আসেন। বেশির ভাগ এলাকায় সড়ক সংলগ্ন বাসাগুলোতেই মশার স্প্রে করা হয়। এলাকার ভিতরের বাসাগুলোতে স্প্রে করতে যান না সিসিকের কর্মীরা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার মশক নিধন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তাই মশা নিধনে এবার সিসিক দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই নগরীতে মশকনিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন কিউলেক্স মশার লার্ভা নিধন করা হচ্ছে। নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড স্প্রে করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিদিন ৩৪ জন লেবার লার্ভিসাইড স্প্রে করছে। উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য ফগার স্প্রে করছেন ৬ জন শ্রমিক। ইতোমধ্যে নগরীর ২ নং ওয়ার্ডে ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।নগরের সৈদানিবাগ,তেররতন,পশ্চিম তেররতন,সাদারপাড়া, জালালাবাদ, ফাজিলচিশত, কালীবাড়ি,মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, বন্দর, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মশা উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরবাসীর অভিযোগ গত ২০ দিন যাবত মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার উৎপাত বেড়েছে।

চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘুরতে আসা হিমাদ্রি, ইয়াহিয়া ও অন্তর বলেন,শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আমরা প্রায়ই এসে আড্ডা দেই। গত কয়েকদিন যাবত দেখছি এখানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। নগরীর ফাজিলচিশত এলাকার  কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পর থেকেই মশার উৎপাত বেড়েছে। তার উপর আমাদের বাসার পাশেই বড় ড্রেন।এই কয়দিন যাবত দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়েছি।ছোট বাচ্চাদের জন্য আরও বেশি চিন্তা।এই মশার কামড়ে না আবার ডেঙ্গু হয়ে যায়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন,মশক নিধনে আমরা দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এবার ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।কারণ এখন যে মশাগুলো আছে সেগুলো এডিস নয়, কিউলেক্স মশা। এই মশাগুলো শুধু কামড়ায়। কিউলেক্স মশা ময়লা ও বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই আমরা আগে কিউলেক্স মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছি। ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার সময় সিসিক মেয়র আমাদের জানিয়েছেন মশক নিধন কার্যক্রমে নির্দিষ্ট কোনো বাজেট দেওয়া হবে না। নগরীর মশক নিধন করতে যত টাকা লাগে তত টাকাই খরচ করা হবে।ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মশক নিধনের আমাদের চলমান কার্যক্রম এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে। এই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই আমরা নগরীর সব কটি ওয়ার্ড থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ শুরু করবো। তারপর এলাকা ভিত্তিক মশার ধরণ অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মে, জুন, জুলাই এই তিন মাস এডিস মশা নিধনে কাজ চলবে সিলেট নগরীতে। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৪ জন কর্মী নগরীতে মশক নিধনে কাজ করছেন। এই সপ্তাহ থেকে ৬০ জন কর্মী মশক নিধনে কাজ করবেন।

নগরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি বলেন, চলমান মশক নিধন কার্যক্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে না মূলত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কারণে। দেখা যাচ্ছে যে সব এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে সেসব এলাকায় ঝোপ-ঝাড় রয়ে গেছে। তাই মশার উপদ্রব কমছে না। সিসিকের মশক নিধন শাখা যদি পরিচ্ছন্ন শাখার সাথে শুরু থেকে সমন্বয় করে কাজ করতো তাহলে এই সমস্যা হতো না। তবে ইতোমধ্যে মেয়র মহোদয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। শিগ্রই নগরীর পরিচ্ছন্নতার কাজও শুরু হবে। তখন আশা করি মশার উৎপাত আর থাকবে না।পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় নগরবাসীর সচেতনতার ব্যাপারে তিনি বলেন, কিউলেক্স মশা ময়লা ও বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে তেমনি এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আপনাদের বাড়ির আশপাশে বা ঘরের ভিতরে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। নগরী পরিষ্কার ও মশক নিধনের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতন করার জন্য সিসিকের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনা হয়েছে। নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করানো হবে।

মন্তব্য
Loading...