Sylhet Express

আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বেপরোয়া চোরাকারবারীদের গডফাদার কামাল মেম্বার

0 ৩৩৫

কামাল মেম্বারের মাদক,গরু, ও ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ পন্যের চোরাচালানের ইতিহাস ।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন :: – ( পর্ব ২) কামাল হোসেন ওরফে ( চা কামাল,) সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার গোয়াইনঘাট থানাধীন ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের খলামাদর গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর পুত্র।বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০১৬ ইং সালে তিনি ১ নং রুস্তুম্পুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন,বিগত মাত্র তিন বছরের মাথায় চা কামাল ” আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ” দৈত্যের ছোঁয়ায় হয়ে যান কয়েক কোটি টাকা ও প্রায় তিন শত বিঘা জমির মালিক,
২০১৬ ইং সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে , নির্বাচনী হলফনামায় কামাল হোসেন নিজের স্থাবর অস্থাবর সহ সর্বমোট মাত্র ২ লক্ষ টাকার সম্পত্তির হিসেব প্রদান করেন কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী তিন বছরের মধ্যেই কামাল হোসেনকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৬সাল থেকেই কামাল হোসেন জড়িয়ে পড়েন অবৈধ ব্যাবসা ও চোরাচালানের সাথে।

কামাল হোসেনের পিতা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলী দেশমাতৃকার সেবায় দেশকে ভালোবেসে নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যোদ্ধ করেন,কিন্তু তারই ছেলে কামাল হোসেন ওরফে চা কামাল,পিতার আদর্শেকে জলাঞ্জলী দিয়ে দেশদ্রোহী কর্মকান্ডে লিপ্ত হন,
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই চোরাচালান হয়ে আসে শত শত অবৈধ ভারতীয় গরু,ইয়াবা,ফেন্সিডিল,স্বর্ণ,ও অবৈধ অস্ত্র সহ বিভিন্ন প্রকার আমদানী নিষিদ্ধ পন্য।

আর এই সব আমদানী নিষিদ্ধ পন্য ও গরু চোরাচালানের গড ফাদার হিসেবে চোরাচালানকারীদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন কামাল মেম্বার ওরফে( চা কামাল,) স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ চোরাচালানে আনা প্রতিটি গরু থেকে ১০০০টাকা করে দিতে হয় কামাল মেম্বার ওরফে চা কামালকে,নিজে স্থানীয় যুবলীগের নেতা হিসেবে প্রভাব খাঁটিয়ে গত তিন বছরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বিপুল অংকের অর্থ,আর এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে চা কামালের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনি,

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন,(১) রুস্তুমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্ববায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ফয়সল আহমদ,

(২) এনাম উদ্দিন, ওরফে সিএনজি এনাম,আজ থেকে বছর দুয়েক আগেও জীবিকা নির্বাহের জন্য যিনি সি এন জি অটো রিকশা চালাতেন, এলাকার সবাই যাকে একনামে সি এন জি এনাম নামেই চেনেন,আজ সেই সি এন জি এনাম নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অনৈতিক কর্মকান্ড, স্থানীয় সূত্রে জানাজায় এনাম নিজেই এখন ১০/১২ কোটি অবৈধ টাকার মালিক।

আর যা সম্ভব হয়েছে কামাল মেম্বারের আশীর্বাদে।

(৩) সেরগুল আহমদ,(৪)তাজুল ইসলাম,(৫) সাধু,( ওরফে বালু সাধু,) সহ আরোও ১০ থেকে ১৫ জন ।
অনুসন্ধানে যানাজায় কামাল মেম্বারের ভয়ে এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা কেউ মুখ খুলতে পারেননা।
যে ব্যক্তিই কামাল মেম্বারের অপকর্মের প্রতীবাদ করেছেন তাদেরকেই কামাল বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠিয়েছেন। কামাল মেম্বারের মাদকের সম্রাজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে চাচা সমছুল ইসলাম,ও ভাই আলী বাহার,স্থানীয় সচেতন মহলের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এবং অনুসন্ধানে জানাজায় ,

সামছুল ইসলাম এবং আলী বাহার বিছনাকান্দি ও গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল,ইয়াবা,মদ,গাজা সহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যের চালান নিয়ে এসে বিভিন্ন পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে।

এবং ঐ এলাকার পুরো মাদক সিণ্ডিকেট তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই সকল মাদকদ্রব্য সিলেট নগরীসহ আশপাশ এলাকার যুব সমাজের কাছে তাদেরই মনোনীত লোকেরা পৌছে দেয়। আর এই পুরো মাদক সম্রজ্ঞের নিয়ন্রণ করছে কামাল মেম্বার ( ওরফে চা কামাল,)।

কামাল মেম্বারের মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা সামছুল ইসলাম ও আলী বাহারের বিরুদ্ধে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানা সহ বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা,তাদের কয়েকটি মামলার বিবরণ নিম্নে প্রদান করা হলো।

১) মামলা নং ১৪/২৫১তাং ২০/১০/২০১৮ ইং ধারা ১৫(৩)২৫দন্ডবিধি।
২) মামলা নং ১০,তাং ১৫/১০/২০১০ইং,ধারা ১৪৩/৩২৩/৩৭৯,।

৩) মামলা নং ৫, তাং ১৩/১০/১৪ইং ধারা ২ ( গ ) ২২ ( ঘ ),মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,

৪) মামলা নং ৬ তাং ১৩/০৪/৬ ধারা ১৪১/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড

এতো কিছুর পরও থেমে নেই কামাল মেম্বারের চোরাচালান বাহিনী,ও তার অবৈধ বাণিজ্য। পূর্বে এই কামাল মেম্বার ও তার সহযোগীদের এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিকবার জেলা প্রশাসক, পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার বিভাগ সহ সরকারী প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করেন স্থানীয় জনগন, এ ব্যপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতা ” রয়েল সিলেটকে ” বলপন কামাল অত্যন্ত ধূর্ত ও মামলাবাজ লোক ।

প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্তাব্যক্তিদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে সে নির্বিঘ্নে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । একারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়।

এ ব্যপারে কামাল মেম্বারের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এসবের কিছুর সাথেই জড়িত নয়,আমার উন্নয়নে ঈর্শ্বান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।

—{ চলবে }—

আগামী পর্বে থাকছে কামাল মেম্বারের অপকর্মের আরো বিস্তর তথ্য।

মন্তব্য
Loading...