Sylhet Express

দুর্নীতির বরপুত্র সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান

0 ৫৮

নিউজ ডেস্ক : দুর্নীতির বরপুত্র সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান। নামে হানিফ (একনিষ্ঠ) হলেও কামে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও আত্মসাত। সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী চাকরি ও দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের সুযোগে প্রভাব বিস্তার করে একাধারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন তিনি । নামেমাত্র বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে লোপাট করছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এক তৃতীয়াংশ লেবার খাটিয়ে বিল তুলে নেন তিনগুন। জ্ঞাত আয়বহির্ভুত বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন নিজ এলাকায়।
মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা হানিফুর রহমান ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তার চাকরি পেয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। শ্রমিকদের নামে টাকা আত্মসাতের কাজ করে আসছেন নিয়োগ ও পোস্টিংয়ের শুরু থেকেই।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রত্যহ রাতে নগরীর পরিচ্ছন্নকাজে ১৫০ জন শ্রমিক লাগানোর কথা থাকলেও ৪০ থেকে ৫০ জন দিয়ে পরিচ্ছন্ন কাজ করিয়ে ১৫০ জনের বিল তুলে নেন হানিফ। একাধিক পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভিযোগ কাজে লোকবল কম থাকায় তাদের দিয়ে নিয়মের অতিরিক্ত কাজ করিয়ে থাকেন তিনি। এ নিয়ে মাঝে মাঝে পচ্ছিন্ন কর্মীদের মধ্যে বিশৃংখলা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের সাথে রয়েছে টেন্ডারবাজ ও অসাধু ঠিকাদারদের গভীর সখ্যতা। টাকার বিনিময়ে টেন্ডার পাইয়ে দিতে রাতের বেলা টেন্ডার ড্রপ করেন। সিডিউল বিক্রি ও জমা নিতেও করেন নানা টালবাহানা ও সুক্ষ্মকারচুপি। ফলে অনেক ঠিকাদারের ক্ষোভ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নগরীর রাস্তায় চলাচলকারী অবৈধ রিক্সা,হাতাগাড়ি জব্ধ করে রাতের আধারে তা ভাঙ্গাড়ীর কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেন। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মচারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যেক শাখাকে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করে ফেলেছেন তিনি। সিটি কর্পেরেশনের এমন কোন শাখা বা বিভাগ নেই যেখানে হস্তক্ষেপ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের। প্রত্যকে শাখার দালালদের সাথে রয়েছে তার গভীর আর্থিক সম্পর্ক। প্রভাব খাটিয়ে ও অধঃস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দালাল ও বাটপারদের নানা অবৈধ কাজ করিয়ে দেন তিনি। বিশেষ করে লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধন শাখার দালালদের কাছ থেকে টাকার কমিশন গ্রহণ তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিনত হয়ে গেছে। আর এ কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তা না বলে অনেকে তাকে ‘কমিশন কর্মকর্তা’ বলে অভিহিত করে থাকেন । গত ২০১৭-১৮ সালে আল্লাহর মসজিদ ও সনাতনীদের মন্দিরের নামে স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া অনেক টিউবওয়েল ব্যক্তি মালিকানা বাসা বাড়িতে বসিয়ে টাকা কামাই করেন তিনি। মসজিদের নামে বরাদ্দ একটি টিউবওয়েল নগরীর কল্বাখানী জালালিয়া ২৫ নং বাসায় স্থাপন করা হয় হানিফুর রহমানেরই নির্দেশে। এভাবে মসজিদ মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে বহু নলকুপ তিনি টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানা বাসা বাড়িতে স্থাপন করে দেন যা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ পাবে। পরিচ্ছন্ন বিভাগ ছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ডেঙ্গুরোধ ও মশক নিধনে তেমন কোন কাজ না করিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিবছর মশক নিধন ও কুকুর নিধনে অনিয়ম আত্মসাতের একটা কমিশন যায় তার হাতে।
পানিবিভাগের কাজে অনিয়ম আত্মসাতে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের কালো হাত। ওয়াসার লাইনের সাথে মটর লাইন বসিয়ে অনেক বাসাবাড়িতে অবৈধ পানি উত্তোলনেও রয়েছে তার কমিশন।
দীর্ঘপ্রায় তিনদশক ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশানিক কর্মকর্তা পদে চাকরি করছেন হানিফুর রহমান। আর এ দীর্ঘমেয়াদে অনিয়ম আত্মসাতের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেন। নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন হানিফ। সিলেট নগরে বিলাসবহুল জীবন যাপনের পাশপাশি নিজ এলাকায় করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি, কোটি-কোটি টাকামূল্যের জায়গা-জমি ও খামার।
তার আয়ের উৎসের খোজ নিতে তাকে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী-সহ বিভিন্ন মহল থেকে।
সিলেট সিটি কর্পেরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের অনিয়ম-দুর্নীতির কোন অন্তঃনেই। তার অনিয়ম দুর্নীতির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে । মিডিয়ার অনুসন্ধ্যানে বেরিয়ে আসবে আরো অনেক বিরল তথ্য।
অভিযোগের ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান-এর সাথে মুটোফোনে কথা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।(সুত্র:  বিজয়ের কন্ঠ)

মন্তব্য
Loading...