Sylhet Express

বিয়ানীবাজারে পিত্রালয়ে গিয়ে সড়যন্ত্রের শিকার তিন সহোদর

0 ১১৮

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মেওয়া গ্রামের মাহমুদ আহমদ চৌধুরীর তিন ছেলে তাদের পৈত্তিক সম্পত্তির উপর দখল নিতে গেলে চাচাদের মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেন তিন ভাই।

অভিযোগে জানা যায়- গত ৯ অক্টোবর বুধবার ট্রাক ভর্তি প্রায় তিন লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে তিন সহোদর তাদের পিত্রালয়ে প্রবেশ করে সকল মালামাল রাখার সাথে সাথে তাদের চাচা মওছুফ আহমদ চৌধুরী বাধা হয়ে দাঁড়ান।

পরে চাচা অন্যান্যদের নিয়ে তিন ভাইকে মারধর করার চেষ্টা করেন। এমনকি তাদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকিও প্রধান করেন। তাদের এমন হুমকিতে তিন ভাই বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে থানা কতৃপক্ষ তাদের ডায়েরি নেয়নি।

থানার ডিউটি অফিসার হালিমের নিকট থানার ওসি তদন্ত জাহিদুল হক জিডি দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা দাবি করেন।

জিডি না নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। তখন তারা তিন ভাই জানতে পারেন তাদের ফুফাতো ভাই বাবলু চৌধুরী ও চাচা মওছুফ আহমদ চৌধরী থানা পুলিশকে বড় অংকের টাকা দিয়ে জিডি না নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কথা বলেন। পরে সাথে সাথে তারা থানা থেকে বেরিয়ে নিরুপায় হয়ে মেওয়া গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মুরব্বিদের বিষয়টি অবহিত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মুরব্বিয়াদের আশ্বাসে তারা তিন ভাই বাড়িতে অবস্তান করে ঘরের মাল গোছাতে ব্যস্ত থাকেন।

পরদিন অর্থাৎ গত ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে চাচা মওছুফ আহমদ চৌধুরী এসআই রতনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিয়ে বাড়িতে আসে।পরে পুলিশ তাদের তিন ভাইকে গ্রেফতার করে করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় এসআই রতন তাদেরকে মারধর করেন। এরপর তাদের পরের দিন শুক্রবার কোর্টের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করে।

উক্ত বিষয়ে ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওয়াহিদ আহমদ চৌধুরী।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- তারা তিন সহোদর তাহমিদ আহমদ চৌধুরী, ওয়াহিদ আহমদ চৌধুরী ও তাওহিদ আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে তাদের মা রুমা বেগমের সাথে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার বসবাস করছেন। তাদের পৈত্তিক সম্পত্তির জন্য তাদের বাড়িতে জান। পরে চাচা মকসুদ আহমদ চৌধুরী, মওসুফ আহমদ চৌধুরী, মাহবুব আহমদ চৌধুরী, তাদের ফুফাত ভাই বাবুল হোসেন, চাচা রাজু আহমদ চৌধুরী, হেলাল আহমদ চৌধুরী, রেহাল আহমদ চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে উক্ত অভিযোগ দায়ের করেন। ও্ই অভিযোক্তরা তারা তিন ভাইয়ের সম্পত্তি ভোগ দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

ওয়াহিদ আহমদ চৌধুরী আরও বলেন- তারা ভাই গত ৯ অক্টোবর বুধবার ট্রাক ভর্তি প্রায় তিন লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে তাদের পিতার বসৎ ঘরে প্রবেশ করে এবং মালামাল গোছাতে থাকেন। তখন অভিযোক্তরা পুলিশ নিয়ে তাদের ঘেরাও করেন। পরে পুলিশের হাতে তিন ভাইকে তোলে দেন। ওয়াহিদ আহমদ চৌধুরীর পকেট থেকে ২০ হাজার টাকাও নেন মওছুফ আহমদ। এরপর শুরু হয় তিন ভাইয়ের উপর পুলিশী নির্যাতন। নির্যাতন শেষে তাদের থানার এসআই রতন কোর্টের মাধমে জেল হাজতে প্রেরন করেন।

বিয়ানীবাজার থানা পুলশের নির্যাতন, মিথ্যা মামলাসহ উল্লেখিত বিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের নিকট আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য
Loading...