গোয়াইনঘাটে প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুলের বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতির অভিযোগ

0 ২৯৮

স্টাফ রিপোর্টার :-সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের ফন্দিফিকিরে ব্যস্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকমাস আগে যোগদান করা এগুনধর অফিসার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে নানা অজুহাতে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। চলতি বছরে সমপনী পরীক্ষার্থীদের ২টি মডেল টেস্ট এর ফি ২৫ টাকা ও ৩০ টাকা হারে অর্জিত প্রায় ৪,২৯,৪৯৫(চার লক্ষ উনত্রিশ হাজার চারশত পঁচানব্বই) টাকার বেশির ভাগই তিনি আত্বসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের উপকরনের ৯৫০০০(পঁচানব্বই হাজার) টাকা তিনি আত্বসাত করেছেন বলেও জানা যায়। এছাড়া ডেপুটেশনে বদলী বাণিজ্য উনার আয়ের প্রধান উৎস বলে স্থানীয়রা জানান । তিনি প্রতিটি ডেপুটেশন বদলি থেকে নাকি ১৫/২০ হাজার টাকা করে নেন । সুত্র জানায়, উপজেলার বুধিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সেবা শ্রী রানী খাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে বদলি হতে ২০,০০০(বিশ হাজার) টাকা উৎকোচ নেন দূর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম।
একই ভাবে উপজেলার বড়ঘোষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রিতা রানী হাকুরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে বদলি হতে ২০,০০০(বিশ হাজার) টাকা, সাতকুড়ি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জুলফা বেগমকে অবৈধ ডেপুটেশনে বদলি হওয়ার ভয় ভিতি প্রদর্শন করে ১০,০০০(দশ হাজার) টাকা উৎকোচ নেন দূর্নীতিবা জ এ কর্মকর্তা। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যািলয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে স্লিপ, সি.এফ.এস, ও ক্ষুদ্র মেরামত কাজে গড়মিল দেখিয়ে আর্থিক বানিজ্য করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।উপজেলার সাতকুড়ি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মামুনের কাছ থেকে ক্ষুদ্র মেরামত ও স্লিপের কাজে গড়মিল দেখিয়ে ২৫০০০(পচিঁশ হাজার) টাকা, নিহাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা বেগম (ভাঃপ্রাঃ) এর কাছ থেকে স্লিপের কাজে গড়মিল দেখিয়ে ৫০০০ (পাচঁহাজার) টাকা, লামা হাদরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের কাছ থেকে স্লিপের কাজে গড়মিল দেখিয়ে ৫০০০ (পাচঁহাজার) টাকা উৎকোচ নেন গুনধর এ কর্মকর্তা। এছাড়া ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সি.এফ.এস এর কাজে গড়মিল থাকায় বেডিং পত্র কিনে দেন দূর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তাকে। এভাবে সমস্ত উপজেলা থেকে নানা অযৌক্তিক অজুহাতে দফায় দফায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, এর আগের কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় তিনি একই অভিযোগে কয়েকবার দন্ডপ্রাপ্ত হন। সহকারী শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের কাছে এ সব দূর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুশাহিদ মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উবায়েদ উল্লাহ শাহীন বলেন,প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি, কারো বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যাবস্তা নেওয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...