ধর্ষণ মামলায় রাজনগর থানার এএসআই জেলহাজতে

0 ১২৩

ধর্ষণ মামলায় রাজনগর থানার এএসআই আবু তাহের ভূঁইয়াকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠারোর আদেশ দেন। ধর্ষণ মামলায় ৬ মাসেরও বেশি সময় পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রাজনগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু তাহের ভূঁইয়া জেলার কমলগঞ্জ থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে কমলগঞ্জ পৌরশহরের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি পরে শারীরিক সম্পর্কে গড়ায়। একপর্যায়ে আবু তাহেরের প্রমোশনের সময় ঘনিয়ে আসে। তাদের মধ্যে ‘কথা ছিল’, প্রমোশন পেয়েই উভয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। কিন্তু কনস্টেবল থেকে সহকারী উপপরিদর্শকে প্রমোশন পেয়েই বদলে যান আবু তাহের ভূইয়াঁ। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চালিয়ে যান শারীরিক সম্পর্ক।

এরই মাঝে আবু তাহের রাজনগর থানায় যোগদান করেন। এদিকে পরকীয়া প্রেমের কারণে ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর একদিন আবু তাহের ওই নারীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ নিয়ে ওই নারী তাহেরকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৩১ শে জানুয়ারি মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা (নং-৩৭৭/১৭) করেন। আদালত গত বছরের ৮ নভেম্বর গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেন। পরে এএসআই তাহের রাজনগর থানা থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেলে আর কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

দীর্ঘ সাড়ে ৬ মাস পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে আত্মসর্ম্পন ও জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নাঞ্জুর করে আবু তাহেরকে জেল হাজাতে পাঠনা। আদালতে বাদী পক্ষে মামলা শুনানী করেন স্পেশাল পিপি এডভোকেট আমিরুল ইসলাম, এডভোকেট মাসুক আহমদ এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এডভোকেট দিপক কুমার ধর।

স্পেশাল পিপি আমীরুল ইসলাম পংকি বলেন, এএসআই আবু তাহের দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এএসআই আবু তাহের নরসিদি জেলার শিবপুর উপজেলার চাইলতাকান্দি গ্রামের সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে।

মন্তব্য
Loading...