রংপুরে ১১ বছর পর পিতৃপরিচয় পেল ধর্ষণে জন্ম শিশু

0 ২৪৬

এগারো বছর আগে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় গৃহকর্তার ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে রংপুরের একটি আদালত। পাশাপাশি আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ধর্ষিতার গর্ভজাত সন্তানকে পিতার স্বীকৃতি দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাবিদ হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার রফিক হাছনাইন জানান।

রায়ে আরও বলা হয়, ২১ বছর বয়স পর্যন্ত গর্ভজাত সন্তানের ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে।সন্তানটির বয়স এখন ১০ বছর।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুল হক(৩০) রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শাল্টিগোপালপুর বান্দেরপাড়ার আলেফ উদ্দিনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, শাল্টিগোপালপুর বান্দেরপাড়া গ্রামের রিকশাচালক সুলতান মিয়ার ১৫ বছর বয়সি মেয়ে সুলতানা খাতুন পাশের আলেফ উদ্দিনের বাড়িতে কাজ করতেন। গৃহকর্তার ছেলে আসাদুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুলতানাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সুলতানা গর্ভবতী হয়ে পড়লে আসাদুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সুলতানা বাদী হয়ে ২০০৭ সালে ৩ জুন আসাদুল ও তার বাবা আলেফ উদ্দিনকে আসামি করে মিঠাপুকুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা করার কয়েকদিন পর ছেলে সন্তানের মা হন সুলতানা। পরে অন্যত্র বিয়ে হয় তার। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর আসাদুলের বিরুদ্ধে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিলে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলার পর আসাদুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুইবছর কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আসাদুলও অন্যত্র বিয়ে করেন। যুক্তিতর্কের দিন বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মন্তব্য
Loading...