যুক্তরাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ

0 ২১৯

যুক্তরাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদ।

রোববার (২৯ এপ্রিল) রাতে অভিবাসীদের প্রতি নির্মম আচরণের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান অ্যাম্বার রাড।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) সকালেই সাজিদ জাভিদকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পেলেন। চলমান অভিবাসন বিতর্কে সাজিদ জাভিদের নিয়োগকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের পানি ঢালার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিভক্ত মন্ত্রিসভার ভারসাম্য রক্ষার কাজটিও অনেকটা সামাল দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

জোরপূর্বক অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন এবং ‘উইন্ডরাশ জেনারেশন’ (১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী)–এর প্রতি নির্মম আচরণ এবং নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে থেরেসা মের সরকার। এ বিতর্ক সামাল দিয়ে কনজারভেটিভ দলের প্রতি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আস্থা ফিরিয়ে আনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাজিদ জাভিদের প্রথম কাজ। এ ছাড়া মাত্রা ছাড়ানো ‘নাইফ ক্রাইম’ (চাকু দিয়ে হামলা), পুলিশের বাজেট কর্তনের যৌক্তিকতা প্রমাণ এবং সন্ত্রাসী হামলার নিয়মিত ঝুঁকি মোকাবিলা হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাজ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যতম একটি বিভাগ। এই বিভাগের মন্ত্রী হওয়াটা যেমন সম্মানের, তেমনি অভিবাসনে ভারসাম্য রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কারণে এটি বেশ চ্যালেঞ্জের। দায়িত্বে ভুল করার কারণে বেশ কয়েকবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান থেকে আসা এক বাসচালকের ছেলে সাজিদ জাভিদের জন্ম ল্যাঙ্কাশায়ারের রচডেল এলাকায়। পেশায় তিনি ছিলেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। ২০১০ সালে ব্রোমসগ্রোভ থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ১৮ মাস তিনি কমিউনিটিস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।

৪৮ বছরের সাজিদ বাণিজ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া, গত বছর লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের সময় সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

রোববার (২৯ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে উইন্ডরাশ বিতর্ক প্রসঙ্গে সাজিদ জাভিদ বলেন, সরকারের অভিবাসন–নীতিতে ত্রুটি আছে। উইন্ডরাশ প্রজন্ম যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, তাঁর বাবা, মা কিংবা তিনি নিজেও এই পরিস্থিতির শিকার হতে পারতেন। তাঁর বাবা ১৯৬০ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন।

মন্তব্য
Loading...