নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য খরচ দিতে হবে: শাবিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

0 ৬৭

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দেশে এলএনজি আসায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় তৈরি হচ্ছে, তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস পেতে হলে কিছুটা খরচ দিতে হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে দাম সমন্বয় করার জন্য, তবে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। শুক্রবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসা’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে চারদিনব্যাপী বিজ্ঞান উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া বিজ্ঞান উৎসবটি শুক্রবার শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়মে অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাবিপ্রবি সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বুয়েটের সিএসসি বিভাগের অধ্যাপক ড.এম কায়কোবাদ প্রমুখ। এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫শ’ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তোলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে কিনা- এক শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নে নসরুল হামিদ বলেন, এতে কোন ক্ষতি হবে না। কেন না, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবন হতে অনেক দূরে অবস্থিত। তাছাড়া আমি জাপানে দেখেছি শহরের মাঝে অনেকগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত তবুও শহরের পরিবেশে তাতে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ছে না।

কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা যেভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তেমনিভাবে কার্ড সিস্টেমে গ্যাস বিল পরিশোধ করার কোন উদ্যোগ সরকার নিচ্ছে কিনা?- একজনের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কার্ড সিস্টেমের কারণে এখন আর বিদ্যুৎ বিল বাকী পড়ে না। কেননা এ সিস্টেমে আগে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে তারপর বিদ্যুৎ সুবিধা নিতে হয়। আমরা আরও ডিজিটালাইজশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার উপায় বের করছি। এ সিস্টেমে গ্রাহকরা ঘরে বসে মোবাইলে মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম মুখস্থ বিদ্যার উপর বেশি জোর দিচ্ছে। যেটা ঠিক নয়।

বিজ্ঞান এবং গণিত সহজ হলেও সাবজেক্ট দুটি আমরা মনোযোগ দিতে পারি না কেন?- এক শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, এমন একটি সংখ্যা বলতো যেটা ২বার যোগ করলে ৪হয়। নিশ্চয় ২। তাহলে এবার এমন একটি সংখ্যা বলতো যেটা দুইবার গুণ করলে ১০৪ হয়। এই অঙ্কের সমাধান খুঁজতে গেলে নিশ্চয় আমাদের কৌতূহল থাকতে হবে। তেমনি বিজ্ঞান এবং গণিতের ক্ষেত্রে আমাদের জানার কৌতূহল থাকতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিজ্ঞানের বিভিন্ন জিনিস আবিষ্কারের জন্য দেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত জয়ী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়। এসময় ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের ২ গ্রুপে বিভক্ত করে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

জুনিয়র আবিষ্কার গ্রুপে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রজেক্টের আবিস্কারক বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুল, ‘মডার্ন সিটি’ প্রজেক্টের আবিস্কারক খাজাঞ্চিবাড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ‘পলুশন ফ্রি ডিজিটাল ভিলেজ’ প্রজেক্টের আবিস্কারক শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ‘বেনিফিশয়্যাল প্রোজেক্ট এ্যাগেইনিষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইড’ প্রজেক্টের আবিস্কারক ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। জুনিয়র গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বায়োফয়েইল’ প্রোজেক্টের জন্য ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সিনিয়র আবিষ্কারক গ্রুপে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ ‘এনভায়রনমেন্টাল ফ্রেন্ডলি কয়েল বেসড পাওয়ার প্ল্যান্ট’ প্রজেক্টের আবিস্কারক শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ‘স্মার্ট হসপিটাল’ প্রজেক্টের আবিস্কারক শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ‘হিউম্যান ডিটেকট্যাটবল কার’ প্রজেক্টের আবিস্কারক ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মেডিকেল কলেজ, ‘অটোমেটিক সোলার সিস্টেম’ প্রজেক্টের আবিস্কারক সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ। সিনিয়র গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বায়োডিগ্রাড্যাবল পপ্ল্যাস্টিক’ প্রোজেক্টের জন্য সিলেট স্কলার্সহোমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়া দুই গ্রুপের মধ্যে সেরা আবিষ্কারক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জালালাবাদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ নির্বাচিত হয়। তাদের প্রজেক্ট সমূহের মধ্যে রয়েছে ‘এয়ারকোলার, ইলেকট্রিক শো, হেডফোন, মাইক্রোফোন, ফায়ারিং মেশিন’।

মন্তব্য
Loading...