আজ মুন্নির বিয়ে : ২০ বছর পর ফের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত রায়নগর শিশু পরিবার

0 ১,৩৭০

নগরীর রায়নগর সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) সেজেছে বিয়ের সাজে। আজ এই পরিবারের এক সদস্যের বিয়ে। পাত্রীর নাম বিপাশা আক্তার মুন্নি। ১০ বছর বয়সে পুলিশ উদ্ধার করে এই শিশু পরিবারে নিয়ে এসেছিলো মুন্নিকে। বাবার নাম জামাল, এই তথ্য ছাড়া আর কিছুই জানতেন না মুন্নি।

সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শিশু সদনে (সেফ হোম) আরও প্রায় ১০ বছর কেটেছে মুন্নির। শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে তরুণী হয়ে ওঠা মুন্নির বিয়ের আয়োজন করেছে শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ। বিয়ে উপলক্ষে রায়নগর শিশু পরিবারে এখন উৎসবের আমেজ। পুরো শিশু সদনকে সাজানো হয়েছে বিয়ের সাজে। প্রবেশদ্বারে সজ্জিত বিয়ের গেইট, ভবনজুড়ে আলোকসজ্জা- কিছুরই কমতি নেই। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র বিলি। নগরীর বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এ অনুষ্ঠানে।

বিপাশার বর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের রাজনগরের আব্দুল লতিফ (২৭)। পেশায় তিনি একজন রংমিস্ত্রি।

বৃহস্পতিবার রাতে সম্পন্ন হলো মুন্নির গায়ে হলুদ। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়- শিশু সদনের ভেতরেই নির্মিত হয়েছে গায়ে হলুদের বর্ণিল মঞ্চ মঞ্চ, স্পিকারে বাজছে গান। বোনের বিয়ের আনন্দে মাতোয়ারা শিশু পরিবারের প্রতিটি সদস্য। শাড়ি পড়ে ফুলের মালা গলায় দিয়ে উৎসবে মেতেছে শিশুরা আর কিশোরীরা ব্যস্ত কনের গায়ে হলুদ মাখাতে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘মুন্নি আপা আইছে, মুন্নি আপা আইছে’ বলে একদল শিশু দৌড়ে গেল মঞ্চে পাশে। গাঁদা ফুলের মালা আর লাল হলুদের চেক শাড়ি পড়ে গায়েহলুদের মঞ্চে নিয়ে আসা হলো কনে বিপাশা বিপাশা আক্তার মুন্নিকে।

বাটা হলুদ, ফুল, কেক, কার্বিং করা বাহারি ফল, সুসজ্জিত মঞ্চ। কোন কিছুরই কমতি নেই মুন্নির গায়েহলুদে। নাচ, গান, ছবি তোলা কি না হচ্ছে শিশু পরিবারে।

এমন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত কনে বিপাশা আক্তার মুন্নিও। তিনি বলেন, ‘এত আয়োজন করে আমার বিয়ে হবে তা কখনো ভাবিনি। নতুন পরিবারে গেলেও সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে এই শিশুপরিবারের প্রতিটি মেয়ে আর শিক্ষিকাদের।’

শিশুপরিবারের সহকারী শিক্ষিকা মিনার বেগম বলেন, ‘মুন্নি যখন এখানে আসে তখন সে বালিকা। সব সময়ই খুব শান্ত মেজাজের সে। তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা দিতে না পাড়লেও অকে আমরা প্রাথমিক শিক্ষা দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিকতা এমনকি সেলাই কাজও শিখানো হয়েছে তাকে। বিয়ের মাধ্যমে মুন্নিকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দিতে পেরেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। নতুন জীবনে সে সুখে থাকবে এই দোয়া করি। ’

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিবাশ রঞ্জন দাশ বলেন, ‘শিশু পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পর বিয়ে দেওয়া হয়। আমরা কোন কমতি রাখিনি মুন্নির বিয়ের আয়োজনে। বিয়েতে অতিথি থাকবেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা। সকলের সহযোগিতায় আমরা এ আয়োজন করতে পেরেছি। সবার আর্শিবাদে আশা করি মুন্নি তার নতুন জীবনে ভাল থাকবে।’

মন্তব্য
Loading...