বালাগঞ্জে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

0 ৯২০

বালাগঞ্জে ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সংঘটিত এ ঘটনার বিষয়ে জড়িত দু’জনের বিরুদ্ধে বালাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছাত্রীর পিতার দায়েরকৃত মামলা (নং৩(৩)১৮)। রবিবার থানায় মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিতার পিতা।

মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছে উপজেলার সিরিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আশিক মিয়ার পুত্র আরিফ মিয়া (১৮) ও বর্তমানে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের নবীনগরে বসবাসরত হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের উপেÐ দাশের ছেলে রোমন দাশ (১৮)।

এ নিয়ে এলাকায় তিব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ এসএম জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি নিজে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের তয়রুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মত স্কুলে যাওয়ার পথে গত শনিবার সকালে প্রলোভন দেখিয়ে তাকে স্থানীয় নবীনগরস্থ রোমন দাশের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আরিফ ও রোমন দু’বন্ধু মিলে কয়েক দফা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এরপর ছাত্রীটি বাড়ি ফিরে ঘটনার বিষয়ে অভিভাবকদের খুলে বলে। ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিক বালাগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করার পাশাপাশি ছাত্রীটিকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ধর্ষিতার মা আলেয়া বেগমের সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণকারীরা মোবাইলে ধর্ষণচিত্র ধারণ করে ঘটনার বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য ধর্ষিতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ধর্ষক আরিফ ইতোপূর্বেও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে তয়রুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তিব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ এসএম জালাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা মো. রুহেল খান বাদী হয়ে রবিবার বালাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য
Loading...