যুক্তরাজ্যে অন্যায্য অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বিক্ষোভ

0 ৪৯৪

যুক্তরাজ্যের অন্যায্য অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা। বুধবার লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে তারা এ বিক্ষোভে যোগ দেন। বহুল আলোচিত ওই অভিবাসন নীতি যুক্তরাজ্যে তাদের ‘রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস’কে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যেসব ব্যাপক দক্ষ জনশক্তি যুক্তরাজ্যে কর্মরত রয়েছেন মূলত তারাই বুধবারের এ বিক্ষোভে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি (আইএলআর) সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে হোম অফিসের দেরি এবং ‘অন্যায্যভাবে’ এ সংক্রান্ত আবেদন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হন ইইউ বর্হিভূত প্রবাসী পেশাজীবীরা।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে এসে যেসব অভিবাসীরা যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন এবং দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হন এমন পেশাজীবী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ছোট শিশুরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে আওয়াজ তোলে। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘কাজ করার অধিকার; সর্বজনীন অধিকার’, ‘হোম অফিস আমার অধিকার কেড়ে নিয়েছে’, ‘যথেষ্ট হয়েছে, বৈষম্য বন্ধ কর’।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই দেশে আমরা যত কাজ করি তার কোনও মূল্য দেওয়া হয় না। আমরা যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের নীতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতে এখানে সমবেত হয়েছি।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ বর্হিভূত কয়েক হাজার পেশাজীবীর একজন এই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। কয়েক বছর আগে টিয়ার ওয়ান (জেনারেল) ভিসায় দেশটিতে পাড়ি দেন তিনি। ন্যূনতম পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে আইনসম্মতভাবে বসবাসের পর তিনি দেশটিতে আইএলআর বা স্থায়ী বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০১০ সালে ভিসা ক্যাটাগরি বন্ধ হয়ে গেলেও আগে আবেদনকারীরা এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন; যদি তারা আবশ্যিক শর্ত পূরণ করে থাকেন।

বুধবার অভিবাসীদের এই বিক্ষোভের আয়োজকদের একজন অদিতি ভরদ্বাজ। তিনি বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ… আমরা এটা ভুলে গেছি যে, আমরা কোথা থেকে এসেছি। এই সাধারণ ইস্যুতে লড়াইয়ে যে কোনও পক্ষই অংশ নিতে পারে।’

অভিবাসীদের এই দলটি এর আগে গত মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের সামনেও বিক্ষোভ করে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের জানামতে টিয়ার ওয়ান (জেনারেল) ভিসার অধীনে শতাধিক আবেদনের ঘটনায় বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়েছে। অন্যথায় ইউকে ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের আওতায় আবেদন খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওই অ্যাক্টের লক্ষ্যবস্তু ছিল অপরাধী এবং কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিরা।

এরইমধ্যে এ বিষয়ে চেঞ্জ ডট ওআরজি-তে একটি অনলাইন পিটিশন খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত এতে ২২ হাজার ৫০০টি স্বাক্ষর পড়েছে। পিটিশনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টপ ক্রিয়েটিং হস্টাইল এনভায়রনমেন্ট ফর ইমিগ্রেন্টস’।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আম্বার রুড এবং বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন বরাবর পিটিশনটি করা হয়েছে।

আগামী ৬ মার্চ হাউস অব কমন্স কমপ্লেক্সে অভিবাসীদের এই দলটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে তারা ব্রিটিশ এমপিদের কাছে এই পিটিশনটি হস্তান্তর করবেন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যাবশ্যক। বিশেষ করে জটিল টিয়ার ওয়ান আবেদনগুলোর ব্যাপারে এটা প্রযোজ্য; যেগুলোর বিস্তারিত বিবেচনা এবং প্রমাণের যাচাই প্রয়োজন। আমাদের অভিবাসন বা ট্যাক্স পদ্ধতির সম্ভাব্য অপব্যবহার এড়াতে এই যাচাই-বাছাই অপরিহার্য। এই ধরনের অপব্যবহার শনাক্ত হলে, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো।

মন্তব্য
Loading...