হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন

0 ১৫২

মো: আবু তালহা তারীফ: ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। মানুষের ঈমান আক্বীদা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিধি বিধান ও দিক নির্দেশনাসহ যাবতীয় মূলনীতি পরিপূর্ণভাবে ইসলামে পেশ করা হয়েছে। ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে যেমনি ভাবে আল্লাহর বিধান মেনে চলা অত্যাবশক অনরুপভাবে সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রেও তার বিধান মেনে চলাও অত্যাবশ্যক। সম্পদ উপার্জন অর্থনৈতিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে যাতে ভারসাম্য ক্ষুন্ন না হয় সেজন্য ইসলাম হালাল হারামের সুষ্পষ্ট সীমারেখা নিদিষ্ট করে রেখে দিয়েছে। ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিশীম। হালাল উপার্জন বলতে বৈধ উপার্জনকে বুঝায়। আল্লাহ ও তার রাসুল (স:) এর নির্দেশিত ও অনুমোদিত পন্থায় যে জীবিকা উপার্জন করা হয় তাকে হালাল উপার্জন বলে। হালাল উপার্জনের মধ্যে রয়েছে মানুষের বিপুল কল্যাণ। আল্লাহ তায়ালা হালালকে উত্তম ও পবিত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু খাও যা আমি তোমাদের জীবিকারুপে দান করেছি”। (সূরা বাকারা-১৭২)

মানব জীবনে জীবিকার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নিজ নিজ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকার জন্য পরিশ্রম ও চেষ্টা তদবীর করা সক্ষম প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। মানুষর দায়িত্ব হলো চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মানুষের কর্তব্য চেষ্টা তদবীর করা”। (সূরা নাজম-৩৯) আল্লাহ তায়ালা রিযিকদাতা তবে রিযিক অন্বেষন করার দায়িত্ব তিনি বান্দর উপর অর্পন করেছেন। আল্লাহর ইবাদত করার পর আল্লাহ নিজেই মানুষদের পৃথিবীর জমীনে কাজ করার জন্য বলেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিযিক) সন্ধান করো” (সূরা জুমআ-১০)

পরিশ্রম না করে অলস বেকার ও কর্মবিমুখ করে ঘরে বসে থাকা ইসলামের দৃষ্টিতে ঠিক নয়। যেহেতু জীবিকা অর্জন করা অবশ্যই কর্তব্য। সেহেতু অলস বসে থাকার অবকাশ ইসলামে নেই। মহান আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী রাসুলগ করেছেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, হজরত দাউদ ও সুলাইমান (আ:) লৌহবর্ম তৈরি করতেন, হজরত আদম (আ:) কৃষিকাজ করতেন, হজরত নূহ (আ:) কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন, হজরত ইদরীস (আ:) ছিলেন দর্জি ও হজরত মুসা (আ) ছাগল চরাতেন”। (মুস্তাদরাক হাকেম) কর্মবিমুখ ও অলসতা করে অথবা কাজ পাই না বলে নিরুৎসাহিত হওয়া যাবে না। পরিশ্রম করে যে কোন ধরনের কাজ করতে হবে। কাজ না পেলে সর্বদা জীবিকার্জনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকতে হবে। কোন অবস্থাতে বসে থাকা যাবে না। হজরত উমর (রা:) বলেন, “তোমাদের কেউ যেন জীবিকার্জনের চেষ্টায় নিরোৎসাহ হয়ে বসে না থাকে”।(কানযুল উম্মাল)

ইসলামে হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জনের উপায় বা উৎস সমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যেমন শ্রম, কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, চাকুরি, ব্যবসা, বাণিজ্য, পশুপালন, হাসমুরগীর খামার মৎস চাষ, বৃক্ষরোপন, নার্সারী ও কুটির শিল্প ইত্যাদি। এছারা ইসলামি অর্থনীনিতে অর্থ সম্পদ আহরনের মূল উপাদান ও উপকরন প্রধানত ১.ভূমি, ২.ব্যবসা ও বানিজ্য, ৩. শিল্প, ৪.মূলধন ৫. হিবা ও অসিয়াত ৭. উত্তরাধিকার ৮. বাইতুল মাল।

হালাল ব্যবসা ও নিজ হাতের উপার্জনকারী ব্যক্তি হচ্ছে সর্বোত্তম। কেননা রাসুল (স:) কে প্রশ্ন করা হল,কোন প্রকারের উপার্জন সর্বোত্তম এ সম্পর্কে নবী করিম (স:) বলেন, “নিজ হাতের উপাজন এবং হালাল ব্যবসায়ের উপার্জন”।( মিশকাত ,আহমদ)
লেখক: খতিব, রোহিতপুর বোডিং মার্কেট জামে মসজিদ, ঢাকা।

মন্তব্য
Loading...