জাফলংয়ে কোয়ারীতে ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

0 ৫৮

সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে গর্তের মাটি ধসে চাপা পড়ে ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলার কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায়। তিনি জানান, বুধবার রাতে প্রত্যাহার করা হলেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ফলে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই মতিরউ রহমানের সাথে মুটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রত্যাহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কোয়ারীতে দূর্ঘটনার দিন আমি স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় সচিব মহোদয়ের প্রটোকল ডিউটিতে ছিলাম।

এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এসআই মতিউরকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করত পাথর খেকোরা। বিনিময়ে তিনি পেতেন মোটা অংকের টাকা। শুধু তাই নয় সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে রয়েছে এসআই মতিউরের গভীর সম্পার্ক বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসবের কিছুই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতেন না পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা মতিউর।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেল পৌণে ৫টায় জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় পাথর উত্তোলনে গিয়ে মাটি ধসে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ চার শ্রমিক নিহত হন। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

গত বুধবার (৩রা জানুয়ারি) সকালে নিহত জহুর আলীর মেয়ে জাকিরুন বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার নং ০১/ তারিখ ০৩.০১.২০১৮ইং। মামলার ৬নং আসামি শাহাবউদ্দিনকে ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) রাতেই আটক করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুরের মৃত মফিজ উল্লাহর ছেলে নুর মিয়া (৪০), হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বানেশ্বরপুরের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে জহুর আলী (৫০), তার ছেলে মোজাহিদ মিয়া (২২) ও একই গ্রামের উওর পাড়ার আল আমিনের স্ত্রী সফিরুন্নেছা (২৫), হবিগঞ্জের বানিয়াচং’র তাজুদ উল্লাহর ছেলে সাদেক আহমদ।

আহতরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মিয়াধনের ছেলে জেলাল উদ্দিন ও গোয়াইঘাটের স্থানীয় মামার বাজারের মিজানুর রহমান।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ ও আরডিসি আরিফুর রহমান।

প্রসঙ্গত গত ১৩ই নভেম্বর জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকার ওই গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে নিহত হন শম্পা দাশ (১৭) নামের এক কিশোরী।

মন্তব্য
Loading...